সিএর এই সিদ্ধান্তের পর সম্ভাব্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ শুরু করেছে মার্কিন মার্চেন্ট ব্যাংক রেইন গ্রুপ। ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রির প্রক্রিয়ায়ও কাজ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সিএর প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বিবিএলকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করাকে বড় আর্থিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার আশা, পুরো প্রক্রিয়া অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের দরজা খুলে দিতে পারে।
তবে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মালিকানার নিয়ন্ত্রণ। রেনেগেডসের ক্ষেত্রে এবার ১০০ শতাংশ মালিকানা বিক্রি হলেও পরবর্তী দলগুলোর ক্ষেত্রে একই সুযোগ নাও থাকতে পারে। সিএর পরিকল্পনায় রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অংশীদারিত্ব বিক্রি করতে পারবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, বিবিএলের বেতনসীমা, ব্র্যান্ডিং এবং বিনিয়োগকারী অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায় সিএ।
এই জায়গাটিই আইপিএল মালিকদের জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করছে। এসএ২০, আইএলটি২০, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও মেজর লিগ ক্রিকেটে আইপিএলের বিভিন্ন মালিকানা গোষ্ঠী নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ভোগ করছে। দ্য হান্ড্রেডেও ভারতীয় মালিকদের বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে বিবিএলে অর্থ বিনিয়োগ করেও যদি দল পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পূর্ণ স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে বিনিয়োগের আকর্ষণ কতটা থাকবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এর সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটারদের প্রাপ্যতার বিষয়টি। বিবিএলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি প্রায়ই একই সময়ে পড়ে। ফলে বড় তারকাদের নিয়মিত পাওয়া যায় না। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ২০১৬ সালের পর থেকে বিবিএলে খেলেছেন মাত্র সাতটি ম্যাচ, যেখানে একই সময়ে আইপিএলে খেলেছেন ৭৬ ম্যাচ। সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনারও জাতীয় দলের ব্যস্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবিএলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রাপ্যতা, অস্ট্রেলিয়ার তুলনামূলক বেশি কর, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং মিডিয়া স্বত্বের মূল্যায়নও বিনিয়োগকারীদের হিসাবের মধ্যে থাকছে। বিশেষ করে পার্থে খেলতে গেলে দীর্ঘ বিমানযাত্রা করতে হয়, যা অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের তুলনায় পরিচালন ব্যয় বাড়াতে পারে। এর বাইরে সিএর বর্তমান সাত বছরের সম্প্রচার চুক্তির মাত্র তিন বছর শেষ হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মিডিয়া স্বত্ব থেকে কতটা আয় আসবে, সেটিও সম্ভাব্য মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সিএর পরিকল্পনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহলেও অবশ্য একমত নন সবাই। ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যক্তিমালিকানায় দল বিক্রি হলে লাভের একটি অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে চলে যাবে এবং তৃণমূল ক্রিকেটে রাজ্য সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কমতে পারে। অন্যদিকে সিএর দাবি, বেসরকারি অর্থ এলে বিবিএলের আর্থিক শক্তি বাড়বে এবং সেই অর্থের মাধ্যমে তৃণমূল ও এলিট ক্রিকেট দুই পর্যায়েই বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।
আইপিএল মালিকদের এই দ্বিধার বিষয়টি তুলে ধরে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-এর প্রতিবেদনে এক আইপিএল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সিএর সঙ্গে আলোচনায় আরও নমনীয়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কঠিন ছিল; ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলোচনা করা তার চেয়েও পাঁচ গুণ কঠিন।' ফলে বিবিএলকে সত্যিকার অর্থে এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বাজারে পরিণত করতে হলে সিএকে মালিকানা, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণের মতো জায়গায় সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আরও কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে।