মারুফা আক্তারের বলে মিড অনের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে নাহিদা আক্তারকে ক্যাচ দেন। তবে নিচু হয়ে আসা ক্যাচ নিতে পারেননি নাহিদা। ব্যক্তিগত ৬ ও ১১ রানের সময় জীবন পেয়ে বাংলাদেশের বোলারদের উপর তাণ্ডব চালাতে থাকেন শেফালি। পরবর্তীতে সহজ রান আউট মিস করেন ফাহিমা। ডানহাতি ওপেনার যখন ৫৬ রানে ব্যাটিং করছিলেন তখন বাউন্ডারিতে ক্যাচ ছাড়েন শারমিন আক্তার সুপ্তা।
তিনবার ক্যাচ ছাড়ার সঙ্গে একবার রান আউট মিস করে শেফালিকে বড় ইনিংস খেলতে সাহায্য করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। সাত চার ও তিন ছক্কায় ৪০ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে ১৪৯ রানের পুঁজি এনে দেন শেফালি। সেই রান আর তাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ। নিগার সুলতানা জ্যোতি মনে করেন, ক্যাচটা নিতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারতো।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা সুযোগ তৈরি করেছিলাম কিন্তু সেটা লুফে নিতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে আমরা শেফালি ভার্মার ক্যাচ ছেড়েছি। সে দলের বেশিরভাগ রান করেছে। যদি আমরা ক্যাচটা নিতে পারতাম তাহলে হয়ত ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতো। অনেক সময় এমন হয়। তবে আমি আমার দলকে গর্বিত।’
ভিন্ন আরেকটি প্রশ্নে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানে আমরা তিনটা ম্যাচ খেলেছি, উইকেট এমনই আচরণ করেছে। কিন্তু আমরা আরেকটু ভালো উইকেট প্রত্যাশা করছিলাম। তারপরও আমরা ভালো বোলিং করেছি এবং সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু সেটা আমরা লুফে নিতে পারিনি। তারা (ভারত) খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে।’
নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের চলতি আসরের বেশিরভাগ ম্যাচেই তুলনামূলক রান কম হয়েছে। বাংলাদেশের খেলা তিনটা ম্যাচেই প্রতিপক্ষ খুব বেশি রান করতে পারেনি। তিন ম্যাচের তিনটিতে ভালো বোলিং করলেও ভারতের বিপক্ষে সেটা ধরে রাখতে পারেননি। রিচা ঘোষ ও হারমানপ্রীত কৌরের ক্যামিওতে ভারতের কাজটা সহজ হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রান হওয়ায় বাংলাদেশও সেটার নাগাল খুঁজে পায়নি।
জ্যোতি মনে করেন, প্রতিপক্ষকে এত সুযোগ দিলে ম্যাচ জেতা কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তাদেরকে হয়ত ১৩০ রানের মধ্যে আটকে দিতে পারব। বিশেষ করে সবশেষ কয়েকটা ম্যাচে আমরা যেভাবে বোলিং এবং ফিল্ডিং করেছি। কিন্তু আজকে আমরা সেটা করতে পারিনি। সেটারই মূল্য দিতে হয়েছে। এই ধরনের উইকেটে আপনি যখন অনেক বেশি রান দেবেন এবং প্রতিপক্ষকে এত বেশি সুযোগ দেবেন তখন রান তাড়া করাটা খুবই কঠিন।’
২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালের পর ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে লড়াইও জমাতে পারছে না সরোয়ার ইমরানের শিষ্যরা। কাগজে-কলমে, শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকা ভারতের সামনে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে থাকে বলে ধারণা করছেন অনেকে। তবে জ্যোতি জানান, এটা স্রেফ তাদের একটা বাজে দিন ছিল।
জ্যোতি বলেন, ‘আমার মনে হয় না চাপের কিছু আছে। এটা আমাদের পুরো দলের জন্যই স্রেফ একটা বাজে দিন ছিল। অনেক সময়ই এমনটা হয়। তাদেরকে আমরা এমন একটা রানে আটকে চেয়েছিলাম যাতে সেটা তাড়া করতে পারি। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’