‘বিগ ব্যাশে বিদেশিরাই এখনো বেশি সুবিধা পাচ্ছে’, অভিযোগ জাম্পার

বিগ ব্যাশ
অ্যাডাম জাম্পা, ফাইল ছবি
অ্যাডাম জাম্পা, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বিগ ব্যাশ লিগের নতুন মৌসুম শুরুর আগে হোবার্ট হারিকেন্সে যোগ দিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। অস্ট্রেলিয়ার তারকা লেগ স্পিনারকে দুই বছরের চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে তারা। ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে মেলবোর্ন রেনেগেডস ছেড়ে হোবার্টে যোগ দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনার। ফলে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ টানা দুই মৌসুম হারিকেনসের হয়ে খেলবেন তিনি।

বিগ ব্যাশ লিগে নতুন চুক্তিব্যবস্থা চালুর পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের জন্য যে সুবিধা বাড়ার কথা ছিল, সেটি পুরোপুরি হয়নি বলে মনে করছেন জাম্পা। বিদেশি ক্রিকেটাররাই এখনো চুক্তির দিক থেকে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন এই লেগ স্পিনার।

গত মাসে বিগ ব্যাশের বিদেশি ক্রিকেটার ড্রাফট বাতিল করে সরাসরি চুক্তির সুযোগ চালু করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে দলগুলোর বেতনসীমা ব্যবহারে স্বাধীনতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ক্রিকেটারদের পেছনে আরও অর্থ খরচ করা যায়। কিন্তু জাম্পার মতে, বাস্তবে সেই পরিবর্তনের সুফল স্থানীয় ক্রিকেটাররা এখনো পুরোপুরি পাচ্ছেন না। ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস ইতিমধ্যে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সে বড় অঙ্কের চুক্তি পেয়েছেন, আর পার্থ স্কর্চার্সের হয়ে সফল মৌসুম কাটানো ফিন অ্যালেনও বড় চুক্তি পেতে পারেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নতুন ব্যবস্থায় এবার কোনো দলকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি ক্রিকেটার রাখতেই হবে না। ফলে চাইলে দলগুলো পুরোপুরি স্থানীয় ক্রিকেটার নিয়েও স্কোয়াড সাজাতে পারবে। তবে, বাস্তবে বিদেশিদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো আসেনি।

হোবার্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পা বলেন, 'আমি মনে করি বিদেশি খেলোয়াড়েরাই এখনো চুক্তির ক্ষেত্রে ভালো দিকটা পাচ্ছে। তবে আমি নিজের সিদ্ধান্তে খুশি। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরই হোবার্টের সঙ্গে চুক্তি করতে আমি বেশ আগ্রহী ছিলাম। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, আমি খুব ভালো একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

হোবার্টে যাওয়ার পেছনে দলটির খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্কও বড় কারণ। অধিনায়ক নাথান এলিসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে জাম্পার। টিম ডেভিড, রাইলি মেরেডিথ, বেন ম্যাকডারমট ও মিচ ওভেনের সঙ্গেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন তিনি। ফলে নতুন দলে মানিয়ে নিতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেই মনে করছেন জাম্পা।

জাম্পা বলেন, 'এখন আমি কার সঙ্গে খেলছি এবং আমার চারপাশে কাদের চাই, সেটাও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। হোবার্টের দলে এমন ছয়-সাতজন আছে, যাদের সঙ্গে আগে খেলেছি। তাই মনে হয়েছে, এখানে গেলে অস্ট্রেলিয়া দলের মতোই একটা পরিচিত পরিবেশ পাব।'

জাম্পা আরো বলেন, 'মাঠে নিজের ভূমিকা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। হোবার্ট আমার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল। এক প্রান্তে রাইলি মেরেডিথ আর অন্য প্রান্তে নাথান এলিস থাকলে আমার নিজের উইকেট পাওয়ার সুযোগও বাড়বে। আমার মনে হয়, এই দলটি ভালো করবে এবং আমিও এখানে সফল হতে পারব।'

এদিকে বিগ ব্যাশে বড় ধরনের বাণিজ্যিক পরিবর্তনও শুরু হয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে মেলবোর্ন রেনেগেডস বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যা লিগের বেসরকারি মালিকানার নতুন যুগের প্রথম পদক্ষেপ। জাম্পারও সাবেক দল রেনেগেডস এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ক্লাব হিসেবে বিক্রি হতে যাচ্ছে। তাঁর আশা, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে লিগের আয় ও বাণিজ্যিক শক্তি বাড়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও আরও ভারসাম্য তৈরি হবে।

আরো পড়ুন: