ফুটবলে প্রতি দুই মাস পর পর ফিফা উইন্ডোতে হয়ে থাকে জাতীয় দলের খেলা। এ ছাড়া সারা বছরই ক্লাব ফুটবলে ব্যস্ত থাকেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা। প্রতিটি দেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট আছে। যেখানে দুনিয়ার সেরা ক্লাবগুলো ইউরোপের সেরা হওয়ার জন্য লড়াই করে। ক্রিকেটের চিত্রটা অবশ্য একটু ভিন্ন।
সারা বছর জাতীয় দলের হয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলায় ব্যস্ত সময় পার করেন ক্রিকেটাররা। মাঝে খেলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ। তবে গত কয়েক বছরে অবশ্য চিত্রটা একটু বদলে গেছে। ক্রিকেটাররা জাতীয় দলের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। কেউ কেউ তো জাতীয় দল থেকেও অবসর নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হচ্ছে।
ভারতের আইপিএলের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, পাকিস্তানের পিএসএল, শ্রীলঙ্কার এলপিএল, সাউথ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিপিএল ও যুক্তরাষ্ট্রের এমএলসির মতো টুর্নামেন্ট হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের লিগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে ক্লাব ক্রিকেট বিশ্বকাপের ভাবনার সম্ভাবনা দেখছেন স্মিথ। যদিও এমন কিছু আগেও একবার দেখা গেছে। তখন অবশ্য এতবেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ছিল না।
তবুও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি চালু করে ভারত, সাউথ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। সেই টুর্নামেন্টে আইপিএলের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, চেন্নাই সুপার কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, ডেকান চার্জার্স, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগের দলগুলো অংশ নিয়েছে।
যদিও ২০১৪ সালের পর থেকে টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়াচ্ছে না। তবে টুর্নামেন্টটি আবারও চালু করার কথা ভাবছে অনেকে। বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আসতে পারে ক্লাব ক্রিকেট বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট। এমন ভাবনা নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘ভবিষ্যতে অনায়াসেই ক্লাব বিশ্বকাপের মতো কোনো টুর্নামেন্ট আমরা দেখতে পারি। ভাবুন তো, আইপিএল, সাউধ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশসহ অন্যান্য বড় লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলছে!’
আইপিএলের পাশাপাশি এসএ টোয়েন্টি, সিপিএল, দ্য হান্ড্রেড, ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি, মেজর লিগ ক্রিকেটেও ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আনতে পারলে সেটা ভালোই হবে বলে ধারণা স্মিথের। সাউথ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ও এসএ টোয়েন্টি লিগের কমিশনার মনে করেন, এমন টুর্নামেন্টের ভিত্তিটা তৈরি করাই আছে।
তিনি বলেন, ‘এখন অনেক লিগেই যেহেতু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যক্তিগত মালিকানা রয়েছে, তাই এই ভাবনার দারুণ সম্ভাবনা আছে। অবশ্যই এমন কিছু বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে অনেক কাজ করতে হবে, তবে এর ভিত্তিটা কিন্তু তৈরিই আছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পুরোপুরি নতুন এক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।’