পাকিস্তানি হওয়ায় সিপিএলে কোচ হতে পারেননি আজহার

সিপিএল
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তানি হওয়ার কারণে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কোচিংয়ের সুযোগ হারানোর দাবি করেছেন আজহার মাহমুদ। সম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেট উইকলিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক এই অলরাউন্ডার জানান, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি করেনি।

মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে সিপিএল চলাকালে একটি দলের সঙ্গে তার কথাবার্তা এগিয়েছিল। কিন্তু পরে আর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার জাতীয়তাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পডকাস্টে মাহমুদ বলেন, 'আমাকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, আমি পাকিস্তানি হওয়ার কারণে তারা বলেছে, আমরা দলে কোনো পাকিস্তানি কোচ বা খেলোয়াড় রাখতে পারব না।'

১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদ। টেস্ট খেলেছেন ২১টি। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব ও কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেন তিনি। ২০১১ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগও পান।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়েও কাজ করেছেন নিয়মিত। ২০১৬ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের বোলিং কোচ হন, দায়িত্বে ছিলেন তিন বছর। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেন। পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করেছেন।

বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বাস্তবতা নিয়ে তিনি বলেন, 'এটা আমার জন্য আদর্শ পরিস্থিতি নয়। আমি ইংল্যান্ডে স্বীকৃত কোচ… গত দুই বছর পাকিস্তান সেটআপে থাকার কারণে এখন নতুন দায়িত্ব পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে গেছে। সবকিছুই এখন আইপিএলের ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত… আইপিএল বা ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোতে কোচ হিসেবে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য কঠিন।'

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, দ্য হানড্রেডের নিলামে ভারতীয় মালিকানাধীন চার ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দলে নেবে না। এ প্রসঙ্গে মাহমুদ বলেন, 'ইংল্যান্ডে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি কমিউনিটি রয়েছে… আশা করি, ইসিবি এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।'

এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো দলকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় কিনতে বাধ্য করতে পারে না; বৈষম্যের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন: