ঢাকাকে বিদায় করে প্লে অফে রংপুর

বিপিএল
রিমার্ক হারল্যান
রিমার্ক হারল্যান
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
দলে তারকার কমতি না থাকলেও সবশেষ তিন ম্যাচে প্রত্যাশিতভাবে ব্যাটিং করতে পারেননি রংপুর রাইডার্সের ব্যাটাররা। বিপিএলের চলতি আসরে শুরুটা ভালো করলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় সবশেষ তিন ম্যাচেই হেরেছেন লিটন দাসরা। তবে রংপুরের ব্যাটিং ব্যর্থতা ঘুচেছে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে, ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে। তাদের দুজনের হাফ সেঞ্চুরিতে ১৮১ রানের পুঁজি পায় রংপুর। লক্ষ্য তাড়ায় নাহিদ রানা, ফাহিম আশরাফদের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেননি সাইফ হাসান, সাব্বির রহমানরা। শেষের দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ৩০ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংসে কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ঢাকাকে রানে হারিয়ে সেরা চার নিশ্চিত করেছে রংপুর। এর আগে সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সিলেট টাইটান্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিপরীতে ৯ ম্যাচের সাতটিতে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ঢাকার।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই উইকেট হারায় ঢাকা। ফাহিমের লেংথ ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে নুরুল হাসান সোহানকে ক্যাচ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন উসমান খান ও সাইফ হাসান। যদিও তাদের দুজনের জুটি খুব বেশি বড় হয়নি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উসমানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ফাহিম। ডানহাতি পেসারের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন উসমান।

টপ এজ হওয়ায় মিড অফে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৮ বলে ৩১ রান করে। পরের ওভারে আউট হয়েছেন সাইফও। পুরো আসর জুড়ে ব্যাট হাতে ছন্দে না থাকা ডানহাতি ব্যাটার ৬ বলে ১২ রান করে নাহিদের বলে বোল্ড হয়েছেন। স্পিনার রাকিবুলকে ছক্কা মেরে ভালো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন সাব্বির রহমান। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নাহিদের গতিময় ডেলিভারিতে কাট করার চেষ্টায় থার্ডম্যানে থাকা মুস্তাফিজুর রহমানকে ক্যাচ দিয়েছেন ৯ বলে ৮ রান করে।

৫৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন শামীম হোসেন ও মিঠুন। তাদের জুটিও বড় হয়নি। রাকিবুলের বলে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে সোহানকে ক্যাচ দিয়েছেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও ২৯ বলে ২৫ রান করে মিঠুন আউট হয়েছেন নাহিদের বলে। শেষের দিকে ইমাদ ওয়াসিম ২০ ও সাইফউদ্দিন ৫৮ রান করে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন। রংপুরের হয়ে নাহিদ তিনটি ও ফাহিম নিয়েছেন দুইটি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুরকে ভালো শুরু এনে দেন মালান ও হৃদয়। যদিও তাদের দুজনেরই শুরুটা হয়েছিল ধীরগতির। প্রথম ৪ ওভারে তারা দুজনে করতে পেরেছিলেন মাত্র ১৯ রান। ইনিংসের পঞ্চম ওভার থেকে হাতখুলে খেলতে শুরু করেন মালান ও হৃদয়। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন মালান। ইংলিশ ওপেনারকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন হৃদয়। তাদের দুজনের ব্যাটেই বিনা উইকেটে একশ রান তোলে রংপুর।

আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিলেন মালান। তবে তাসকিন আহমেদের বলে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন ৪৯ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলা বাঁহাতি ওপেনার। মালানের বিদায়ে ভাঙে তাদের দুজনের ১২৬ রানের জুটি। বিপিএলে প্রথম উইকেটে রংপুরের এটাই সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। এর আগে স্টিভেন টেলর ও সৌম্য সরকার ১২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। একটু পর হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন হৃদয়। ৪০ বল খেলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। যদিও হাফ সেঞ্চুরির আগেই ফিরতে পারতেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

তিনবার ক্যাচ তুলে দিলেও সেটা লুফে নিতে পারেননি সাইফউদ্দিন, উসমানরা। তবে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তাকে ফিরিয়েছেন মারুফ মৃধা। বাঁহাতি পেসারের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় সীমানায় ইমাদ ওয়াসিমকে ক্যাচ দিয়েছেন ৪৬ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলা হৃদয়। তিনে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন কাইল মেয়ার্সও। যদিও শেষ ওভারে আউট হয়েছেন ১৬ বলে ২৪ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে রানের পুঁজি পায় রংপুর।

আরো পড়ুন: