আফগান পেসারের শেষ বলে চার মারতে না পারায় চট্টগ্রাম রয়্যালসকে থামতে হয় ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে। বিপিএলের চলতি আসরে ২৬ ম্যাচ পেরিয়ে যাওয়ার পর সেটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রাণই হলো রান। এবারের বিপিএলে অবশ্য প্রত্যাশিত সেই রানের দেখা মেলেনি। চার-ছক্কার সেই মারকাটারি ব্যাটিংয়েও নেই। হাতেগোনা কয়েকটা ম্যাচ ছাড়া বাকি সবই হয়েছে প্রায় একপেশে। হাফ সেঞ্চুরি কিংবা সেঞ্চুরি— কোথাও সেই দাপটটা নেই।
অথচ গত মৌসুমে একের পর এক বিশৃঙ্খলার পরও মাঠের ক্রিকেট আমেজ ছিল। হয়েছে জমজমাট ম্যাচও। ২০২৫ বিপিএলে ভালো উইকেটের সঙ্গে রানের বন্যা বইয়ে যাওয়ায় ১৩ ইনিংসে দুইশ ছোঁয়া কিংবা তাঁর চেয়ে বেশি দলীয় সংগ্রহ হয়েছে। ১৯০ থেকে ১৯৯ পর্যন্ত রান হয়েছে ১১ টি ইনিংসে। ১৭০ থেকে ১৮৯ রান হয়েছে এমন ইনিংসের সংখ্যা ১৭টি। অথচ চলতি বিপিএলে দেড়শ ছোঁয়াই যেন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখনো পর্যন্ত এবারের বিপিএলে দুইশর দেখা মেলেনি। ১৯০ ছুঁয়েছে কিংবা পেরিয়েছে এমন ইনিংসের সংখ্যা মাত্র তিনটি। ১৮০ থেকে ১৮৯ রান পর্যন্ত ইনিংসের সংখ্যাও একই। এমনকি ২৬ ম্যাচের মাত্র ২০ ইনিংসে দেড়শ ছোঁয়া রান দেখা গেছে। যদিও বেশিরভাগই আটকে গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ রানের মধ্যে। এমন অবস্থায় জন্য একই মাঠে বেশি ম্যাচ হওয়াকে দায় দিচ্ছেন পারভেজ হোসেন ইমন। বাঁহাতি ব্যাটার জানান, সব দলেরই ২০০ রান করার সামর্থ্য আছে।
এ প্রসঙ্গে পারভেজ ইমন বলেন, ‘সিলেটে অনেকগুলো ম্যাচ হয়েছে। একটা উইকেটে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলেছি, উইকেটের আচরণটা একেক সময় একেক হয়ে যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচে এক রকম থাকলে দ্বিতীয় ম্যাচে আরেক রকম হচ্ছে। এমনও হয়েছে প্রথম ইনিংসে এক রকম, দ্বিতীয় ইনিংসে আরেক রকম। ওই কারণেই হয়তবা একটু কঠিন ছিল।’
‘সবারই (দলের) সামর্থ্য আছে ২০০ করার, আমাদের বিপিএলে অবশ্যই ২০০ হয়েছে। এই মৌসুমে এখনো হয়নি কিন্তু আগের মৌসুমগুলোতে হয়েছে। তিনটা ভেন্যুতে খেলা হলে একটা লাভ হচ্ছে উইকেটগুলো ভালো করে প্রস্তুত করতে পারে। আমরা সিলেটে এতগুলো ম্যাচ খেলেছি, ওইখানে উইকেট শেষের দিকে ওইরকম সাপোর্ট করছিল না।’
সিলেট থেকে চট্টগ্রামে বিপিএল যাওয়ার কথা থাকলেও সেটা শেষ পর্যন্ত হয়নি। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ২৪ ম্যাচ হওয়ার পর দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসেছে ঢাকায়। প্রথম দিনের দুইটি ম্যাচেই বড় রানের দেখা মেলেনি। মিরপুরে সাধারণত টার্নিং উইকেটের দেখা মিললেও পারভেজ জানিয়েছেন এমন কিছু তিনি দেখেননি। বরং উইকেট ভালো ছিল বলে দাবি করেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। সেই সঙ্গে এও বলেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে পেসাররা একটু বাড়তি বাউন্স পেয়েছেন।
পারভেজ ইমন বলেন, ‘উইকেট ভালো ছিল। উইকেটের খুব বেশি ইয়ে (দোষ) দেয়া যাবে না, উইকেট ভালোই ছিল। শুধু দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা যখন ব্যাটিং করছিলাম তখন একটু অতিরিক্ত বাউন্স হচ্ছিল। এ ছাড়া অপ্রত্যাশিত টার্ন বা এমন কোনো কিছু দেখিনি।’