মেহেদী-জয়ের ঝড়ের পর আমেরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিতল চট্টগ্রাম

বিপিএল
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে অ্যাডাম রসিংটন ও শেখ মেহেদীর দুর্দান্ত ইনিংসে দুইশ ছোঁয়া পুঁজি পায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। বন্দর নগরীর দলকে জেতাতে বাকি কাজটা সেরেছেন আমের জামাল, শরিফুল ইসলামরা। একপ্রান্ত আগলে রেখে আফিফ হোসেন টেনে নেয়ার চেষ্টা করলেও চট্টগ্রামের বোলাররা সেটা করতে দেননি। শেষের দিকে ৯ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলেন খালেদ আহমেদ। তবুও সিলেট টাইটান্সকে জয় এনে দিতে পারেননি তিনি। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ ওভারে ৪ উইকেট নেয়া আমেরের সঙ্গে বাকিদের প্রচেষ্টায় সিলেটকে ১৮৪ রানে আটকে দেয় চট্টগ্রাম। স্বাগতিক সিলেটকে ১৪ রানে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছেন মিজানুর রহমান বাবুলের শিষ্যরা।

জয়ের জন্য ১৯৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি সিলেটের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। পেসার আবু হায়দার রনির বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। টানা দুই ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করা ইমন আবারও ব্যর্থ হয়েছেন। আফিফ হোসেন ও তৌফিক খান তুষার মিলে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। পাওয়ার প্লে শেষের আগে অবশ্য তাদের জুটি ভাঙেন আমের।

ডানহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্কয়ার লেগে শরিফুলকে ক্যাচ দিয়েছেন ১৯ বলে ২৩ রান করা তৌফিক। চারে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রনি তালুকদার। পেসার আমেরের বলে ফেরার আগে করেছেন ২ বলে ৬ রান। দ্রুতই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট। ভালো শুরু পেলেও ১১ বলে ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি মঈন আলী। দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও সিলেটের রান একশ হওয়ার আগেই আউট হয়েছেন আফিফ।

স্পিনার তানভির ইসলামের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন চারটি চার ও দুইটি ছক্কায় ৩৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলা বাঁহাতি এই ব্যাটার। ছক্কা মারার চেষ্টায় আজমতউল্লাহ ওমরজাই ফিরেছেন ১৪ বলে ১৮ রান করে। শেষের দিকে ইথান ব্রুকসের ১০ বলে ২০, মেহেদী হাসানের মিরাজের ১৪ বলে ১৭ ও শেষের দিকে খালেদের ৯ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংসে কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। চট্টগ্রামের হয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন আমের। এ ছাড়া শরিফুল দুইটি ও আবু হায়দার একটি উইকেট পেয়েছেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর আভাসই দিয়েছিলেন নাইম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। মঈনের গুড লেংথ ডেলিভারিতে সুইপ করতে চেয়েছিলেন নাইম। তবে টপ এজ হওয়ায় ১৫ বলে ১৮ রান করে ফিরে যেতে হয় বাঁহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয় ও রসিংটন মিলে ধাক্কা সামাল দেন। পাশাপাশি দ্রুত রানও তুলতে থাকেন তারা দুজন।

চট্টগ্রামের রান একশ ছোঁয়ার আগে ৬০ রানের জুটি ভাঙেন রুয়েল মিয়া। বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে শর্ট কভারে তৌফিকের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন মাত্র ২১ বলে ৪৪ রান করা জয়। একটু পর ফিরেছেন রসিংটনও। ইংলিশ ব্যাটারও পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। বিপিএলে প্রথম ব্যাটার হিসেবে টানা চারটি হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ার সুযোগ থাকলেও ৩৮ বলে ৪৯ রান করে ফিরতে হয়েছে তাকে। আবারও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন আসিফ আলী।

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো হাসান নাওয়াজ ২০ বলে ২৫ রান করেছেন। তবে শেষের দিকে ঝড় তুলে চট্টগ্রামের রান বাড়িয়েছেন মেহেদী। চারটি চার ও একটি ছক্কায় মাত্র ১৩ বলে ৩৩ রান করেছেন তিনি। আমেরের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ রান। শেষ ৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তোলে চট্টগ্রাম। সফরকারীদের ১৯৮ রানের পুঁজি পাওয়ার দিনে সিলেটের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন রুয়েল। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ওমরজাই ও মঈন।

আরো পড়ুন: