মুশফিকের ফিফটির পরও হারল মোহামেডান, শিরোপা স্বপ্নে ধাক্কা

ডিপিএল
মুশফিকুর রহিম, ফাইল ফটো
মুশফিকুর রহিম, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাক্কা খেল মোহামেডান। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের হারে শীর্ষস্থানে থাকা দলটির পথ কঠিন হয়ে গেছে। ১৬ বছর পর শিরোপা জয়ের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এই হারের পর তা আর কেবল নিজেদের হাতে থাকল না।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২২৫ রান তোলে মোহামেডান। জয়ের জন্য ২২৬ রানের লক্ষ্য পাওয়া ঢাকা লেপার্ডস ১৫ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

মোহামেডানের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, আনিসুল ইসলাম ও তাইবুর রহমান পারভেজ- শীর্ষ সারির প্রায় সবাই দ্রুত ফিরে যান। এক পর্যায়ে ৫৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।

শুরুতে বিজয় বোল্ড হন আট বলে এক রান করে। পাঁচ বলে দুই রান করা আনিসুলকে বিদায় করেন আলাউদ্দিন বাবু। এরপর ১৪ বলে ১৩ রান করা নাইম শেখকে বোল্ড করেন মঈন খান। ৪৭ বলে ২২ রান করা ইমনকে বিদায় করেন সৈকত আলী।

চার উইকেট পড়ার পর ইনিংস সামাল দেয়ার দায়িত্ব নেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ৮০ বলে ৬৮ রান করে দলের সংগ্রহ এগিয়ে নেন। তাকে সহায়তা করেন আফিফ হোসেন, তার ব্যাট থেকে আসে ৫৩ বলে ৩৯ রান। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের ২৫ বলে ৩৩ রানের ইনিংস দলকে দুই শতাধিক রানের সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে।

বল হাতে ঢাকা লেপার্ডসের হয়ে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন শেখ পারভেজ জীবন। অফ স্পিনে ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। মুশফিক, আফিফ ও সাইফউদ্দীনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে মোহামেডানের বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা থামিয়ে দেন এই বোলার। মোহামেডানের আট উইকেটের মধ্যে পাঁচ ব্যাটারই বোল্ড হন।

এরপর রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ঢাকা লেপার্ডস। ওপেনার জাওয়াদ আবরার নতুন বলের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ৩৪ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ছিল ছয়টি ছক্কা ও পাঁচটি চার। তার এই ইনিংসই মূলত ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়।

জাওয়াদের বিদায়ের পর দায়িত্ব তুলে নেন মুমিনুল হক। তিন নম্বরে নেমে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। ৭৭ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে চারটি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটেই নিশ্চিত হয় ঢাকা লেপার্ডসের জয়।

এই জয়ে ঢাকা লেপার্ডসের অবস্থানে বড় পরিবর্তন না এলেও বড় ক্ষতিটা হয়েছে মোহামেডানের। পূর্ণ পয়েন্ট পেলে শেষ ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে জয়ই শিরোপার পথ সহজ করে দিত। এখন সমীকরণ কিছুটা জটিল।

ফলে শেষ ম্যাচের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে দলটিকে। মোহামেডানের মতো ১০ ম্যাচে আটটি করে জয় আছে আবাহনী এবং প্রাইম ব্যাংকেরও! নেট রান রেটে পিছিয়ে আছে বাকি দুটি দল।

আরো পড়ুন: