প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের চেয়ে ১০৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। আবারও সালিম সাফির বলে আউট হয়েছেন সাদমান ইসলাম। ডানহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। প্রথম ইনিংসের মতো আবারও ব্যর্থ হয়েছেন মুমিনুল হক।
ইয়ামিন আহমদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। ১৪ বলে ৭ রান করেছেন মুমিনুল। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও ভালো শুরু পেয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। যদিও পঞ্চাশ করতে পারেননি তিনি। ৩১ রানে আউট হয়েছেন ইয়ামিনের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরেন শান্ত ও মুশফিক।
তাদের দুজনকে বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিলেন আফগান বোলাররা। তবে সেটা দারুণভাবে সামলে নিয়েছেন মুশফিক ও শান্ত। প্রথম ইনিংসে ডাক মারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন মুশফিক। ৩০তম টেস্ট পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৭৩ বলে। অনেকটা ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে ১৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন শান্ত। দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে ছিলেন মুশফিক। যদিও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তিনি।
জিয়া উর রহমানের শর্ট ডেলিভারি উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তবে বাউন্সের কারণে ব্যাটে ঠিকঠাক খেলতে পারেননি মুশফিক। স্লিপে হাশমতউল্লাহ শহীদির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে। সেঞ্চুরি করতে পারেননি শান্তও। কাইস আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের অধিনায়ক আউট হয়েছেন ১৯১ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হয় হাসানকে। যদিও টিকতে পারেননি তিনি। জিয়ার দারুণ এক ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন হাসান। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। ১৩ বলে ৫ রান করে অপরাজিত আছেন লিটন। মেহেদী হাসান মিরাজ রানের খাতা খোলার আগেই দিনের খেলা শেষ হয়ে গেছে।
এর আগে সকালের শুরুতে নতুন বল পেয়েই জ্বলে ওঠেন বাংলাদেশের দুই পেসার। সকালে সফরকারীদের যেমন শুরু প্রয়োজন ছিল সেটাই এনে দেন তারা দুজন। যার শুরুটা করেছিলেন ইবাদত হোসেন। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ইকরাম আলীখিল। বাঁহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন ১০৩ বলে ৩২ রান করে। ইকরামের বিদায়ে ভাঙে রহমতের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি।
পরের গল্পটা হাসানের। ডানহাতি পেসারের ব্যাক অব লেংথের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ইসমাত আলম। পরের বলে আউট করেছেন কাইস আহমেদ। বাংলাদেশের পেসারের বলে কাইসের ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপ ও উইকেটকিপারের মাঝ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তবে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। তাড়াহুড়ো করে ব্যাটিংয়ে নেমে টিকতে পারেননি জিয়া উর রহমান।
হাসানের দারুণ এক ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন তিনি। আম্পায়ার যদিও শুরুতে আউট দেননি। তবে হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকায় শান্ত রিভিউ নিতে দেরি করেননি। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে। জিয়াকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন হাসান। বোলার হিসেবে বাংলাদেশের তৃতীয়। এর আগে এমন কীর্তি গড়েছেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক। পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম। একটু পর ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটের ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট পেয়েছেন হাসান। এর আগে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এদিন বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটও নিয়েছেন হাসান। পেছনে ফেলেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তাসকিন আহমেদকে।
সবাই আউট হয়ে গেলেও অন্যপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন রহমত। আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন সেঞ্চুরিও। যা কিনা তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করে ২১৬ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। আফগানদের ২৪০ রানে অল আউট করার দিনে বাংলাদেশের হয়ে হাসান পাঁচটি ও ইবাদত চারটি উইকেট পেয়েছেন। একটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ লিড পায় ১০৬ রানের।