পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমস
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
এশিয়ান গেমসের একের পর এক ম্যাচ বৃষ্টি পণ্ড হয়েছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচও ভেজা মাঠের কারণে নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়াতে পারেনি। ম্যাচ নেমে এসেছিল ১৩ ওভারে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তবে তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১১১ রান তুলে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য ১.৩ ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হাতে রেখেই= পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। এর ফলে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে আগামী রবিবার ব্রোঞ্জের জন্য লড়বে বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মাজ সাদাকাত। তবে ওভারের শেষ বলে শাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন শেখ মেহেদী। মেহেদীর টসড আপ ডেলিভারিতে লং অনে দারুণ ক্যাচ নেন হৃদয়।

এরপর দ্বিতীয় ওভারে সাদাকাতকে আউট করেন নাসুম আহমেদ। ডিপ স্কয়ারে পাকিস্তানের এই ওপেনার ক্যাচ দেন হৃদয়কে। একপ্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানের হয়ে ঝড় তুলেছিলেন সাইম আইয়ুব। তাকে নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১২ বলে ২১ রান করে আউট হওয়ার আগে মুস্তাফিজের করা প্রথম দুই বলে ছক্কা মেরেছিলেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার।

মুস্তাফিজের বল মিড উইকেট দিয়ে খেলতে গিয়ে তানজিদকে ক্যাচ দেন তিনি। উসমান খানকে ফেরান রিশাদ হোসেন। লেগ স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে টাইমিং মিস করে শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চলে নাসুমকে ক্যাচ দেন ৯ বলে ১৪ করা এই পাকিস্তানি ব্যাটার। এরপর দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নেন আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজ। এদিন বল হাতে বেশ খরুচে ছিলেন মুস্তাফিজ। তিনি ২ ওভারে ১টি উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪১ রান। নাসুম ১ উইকেট নেন ৩৩ রানে।

এদিন টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৭ রানে তানজিদ হাসানের বিদায়ের পর অধিনায়ক লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তানজিদ ৭ রান করে আরাফাত মিনহাসের বলে শাহিবজাদা ফারহানের ক্যাচ হন। এরপর সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ২ রানেই বোল্ড হন লিটন।

২১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মিনহাসের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ডিপ স্কয়ার লেগে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন, করেন মাত্র ১ রান। এরপর সাইফ হাসানও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সুফিয়ান মুকিমের বলে ১৯ রান করে এলবিডব্লিউ হলে ৫০ রানের আগেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন হৃদয় ও মোসাদ্দেক। দুজনের জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ২৫ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হৃদয়। মুকিমের বলে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইম আইয়ুবের ক্যাচ হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর মোসাদ্দেককেও ফিরিয়ে দেন মুকিম।

১১ রান করা মোসাদ্দেক কাভারে শাহিবজাদা ফারহানের ক্যাচ হন। তাতে ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষদিকে শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেন দ্রুত রান যোগ করে বাংলাদেশের সংগ্রহ একশ পার করেন। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হন শেখ মেহেদী। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১১১ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

আরো পড়ুন: