গা গরমের এই প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ওপেনার হিসেবে নামেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং তানজিদ। এ দিন রানের খাতাটাই খুলা হয়নি তানজিদের। ইনিংসের ৩য় ওভারে হেনো জেকবসের বলে স্যাম কনসটাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম ফেরেন ডাক মেরে। সাদমান এবং মুমিনুল মিলে এরপর ধীরে সুস্থে শুরু করেন রান সংগ্রহের কাজ।
তবে খুব বেশিদুর এগুতে পারেনি সেই জুটিও। দলীয় ৩৮ রানে ভাঙে ৩১ রানের সেই জুটি। জেকবসের হাতে ক্যাচ দিয়ে কোরি রকিচিওলির বলে আউট হন আরেক ওপেনার সাদমান। ৩১ রান করে সাদমান সাজঘরে ফিরলে, ১৫ ওভার শেষ হবার আগেই বাংলাদেশ হারায় নিজেদের দুই ওপেনারকে। তবে এই স্পিনার বিপদটা আরো বাড়িয়ে দেন ইনিংসের ২১ আর ২৩তম ওভারে। ২১তম ওভারে তার বলেই কার্টিস পেটারসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে মুমিনুল ফেরেন মাত্র ১৬ রান করে। অপরদিকে দেশের অভিজ্ঞতম টেস্ট ব্যাটার মুশফিক খুলতে পারেননি রানের খাতাই।
উইকেটের অন্য প্রান্তটা ঠিকই আগলে রেখেছিলেন শান্ত। পরিক্ষা দিচ্ছিলেন নিজের ধৈর্্য্যের। তবে বড় রানের আশা দেখালেও, সেটা করে দেখাতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৩৭ রান করে শান্ত আউট হন ক্যাম্পবেল থম্পসনের বলে। এতেই, ১০০ রানের মাইলফলক পার করে বাংলাদেশ হারায় নিজেদের পঞ্চম উইকেট। ১৫ রান করা অমিত হাসান সাজঘরে ফিরলে, বাংলাদেশ দেখে একটি বড় জুটির।
৪৮ রানের সেই জুটিটি আসে সপ্তম উইকেটে। মেহেদী হাসান মিরাজ এবং সৌম্য সরকারের হাত ধরে। তবে মিরাজকে খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি লম্বা সময় পর টেস্ট দলে ডাক পাওয়া সৌম্য সরকার। সেই কোরি রকিচিওলির বলেই সাজঘরে ফেরেন এই ব্যটার। তবে হাল ছাড়েন্ননি মিরাজ। তুলে নেন ফিফটি।
এদিকে নিজের ফাইফারের জন্য মরিয়া হয়ে থাকা কোরি খুব বেশি সময় নেননি সেই জুটি ভাঙ্গতে। লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলে তাইজুল ইসলামকে আউট করেন যখন বাংলাদেশের দলীয় রান ৮৮। চার রান করা হাসান মাহমুদকেও ফেরান এই স্পিনার। শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের ক্যামিওতে বাংলাদেশ পার করে ২০০ রানের মাইলফলক।
তবে মিরাজ এগিয়ে যান দূর্দান্ত গতিতে। তার হাঁকানো ছক্কায় ভর করেই বাংলাদেশ পার করে আড়াইশ। পরের ওভারেই চার হাঁকিয়ে তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরিটাও। শেষমেষ খালেদ আউট হলে, ২৬৩ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আর ১০৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।
এরপরের ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের সব থেকে ভয়ংকর ব্যাটার স্যাম কনস্টাসকে নিজের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরান হাসান মাহমুদ। নেন উইকেট মেইডেন ওভার। অপরদিকে নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে আরেক ওপেনার ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে বোল্ড করেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ, তাকে খুলতেই দেননি রানের খাতা। আর তাতে মাত্র ১ রানে অস্ট্রেলিয়া হারায় নিজেদের দুই ওপেনারকে।
তবে মোমেন্টাম পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় উইকেটে কার্টিজ প্যাটারসন এবং জশ ফিলিপ মিলে গড়ে তোলেন ৫০ রানের জুটি। শেষমেষ দুই উইকেটেই ৫১ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করে অজিরা।