নাহিদের বড় ক্যারিয়ারের আশা সাকিবের, নেতৃত্ব বদলের আগে দিলেন সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ ক্রিকেট
সাকিব আল হাসান ও নাহিদ রানা, ফাইল ফটো
সাকিব আল হাসান ও নাহিদ রানা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি, প্রথম কোনো বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি র‍্যান্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেখান থেকেই শুরু। এরপর থেকে দেড় দশক বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ছিলেন এই অলরাউন্ডার। সাকিবের পর মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ঘুরে এখন দেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয়ের ব্যাটন নাহিদ রানার হাতে। ইনজুরির কারণে এখন মাঠের বাইরে থাকা নাহিদ সেই ব্যাটনটা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করেন সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

‎গত মে মাসেই দেশের মাটিতে সবশেষ ম্যাচ খেলার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে সাকিবের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিবের দেশের হয়ে আবারও মাঠে ফেরাটা নানান যদি-কিন্তুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও সাকিবের মন পড়ে আছে দেশেই। নিয়মিতই খোজ-খবর রাখছেন নিজের সতীর্থদের। সাম্প্রতিক সময়ে নাহিদের গতি দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনায় আসাটা উপভোগ করছেন সাকিবও। ক্রিকফ্রেঞ্জিকে সাকিব জানিয়েছেন সাম্প্রতি দেশের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব পরিবর্তন নিয়ে নিজের ভাবনার কথাও।

‎ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাকিব বলেন, 'নাহিদ খুবই ভালো করছে। আশা করি ওর ক্যারিয়ারটা অনেক বড় হবে। নিজেকে অনেক মেইনটেইন করতে হবে। যেহেতু ফাস্ট বোলার আর এত জোরে বল করে, ওর জন্য কঠিন। আশা করি ও খুব ভালোভাব মেইনটেইন করবে এবং ওর ক্যারিয়ারটা অনেক বড় হবে।'

‎একটা সময় তিন ফরম্যাটেই দেশের অধিনায়ক ছিলেন সাকিব। তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়কের যুগেও সাকিব পালন করেছেন অধিনায়কের দায়িত্ব। তাই বাংলাদেশে অধিনায়কত্বের সবগুলো পাতাই বেশ চেনা তার। দেশের ক্রিকেটে সম্প্রতি আবারও তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়কের নীতি থেকে সরে আসার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসকে দায়িত্ব দেবার আলোচনাও চলছে দেশের ক্রিকেট মহলে।

এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, 'আসলে এটা (তিন অধিনায়ক থেকে দুই অধিনায়কের সিদ্ধান্ত) দলের ভেতরে কতটা ভালো পরিবেশ তৈরি করে, এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। কিন্তু বাংলাদেশে তো এগুলো হরহামেশাই হয়ে থাকে। খেলোয়াড়রাও হয়ত এটা মানিয়ে নিয়েছে।'

অধিনায়কত্ব নিয়ে অবশ্য অম্ল-মধু দুই ধরণের স্বাদই পেয়েছেন সাকিব। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে হুট করেই অধিনায়কত্ব পান সাকিব। অধিনায়কত্ব পাবার পর দল নির্বাচন ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের দলে থাকা না থাকা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে এতসব নাটকীয়তার ফল অবশ্য হয়েছে খুবই খারাপ। প্রবল প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে গেলেও নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বাজে ফলাফল নিয়ে দেশে ফিরেছিল সাকিবের দল।

২০২৭ বিশ্বকাপের এক বছর আগে যখন আবারও দেশের ক্রিকেটে যখন আবারও অধিনায়ক পরিবর্তনের আলোচনা তখন এ প্রসঙ্গে বেশ বাস্তববাদী সাকিব। সাকিব জানান, অধিনায়ক ও দলের খেলোয়াড়দের ওপর অধিনায়ক পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে কিনা সেটি আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।

সাকিব বলেন, 'একেকজনের মানসিক অবস্থা তো একেক রকম থাকে, সেটা তো আমার পক্ষে বলা মুশকিল। কিন্তু যদি পারফরম্যান্স খারাপ হয়, অবশ্যই আপনারা এটাকে দায়ী করতে পারবেন। আর যদি পারফরম্যান্স ভালো হয়, তাহলে বলতে পারবেন যে না, এটা প্রভাব পড়েনি।'

আরো পড়ুন: