হতশ্রী ব্যাটিংয়ে ১৪১ রানও তাড়া করতে পারল না বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
গতি, বাউন্স, ইয়র্কারে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ইউনিটকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশের পেসারের গতিময় বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিক ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। তবে সেই প্রতিশোধ নিতে একটুও সময় নেননি ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামুরিরা। অফ স্টাম্পের বাইরে একের পর এক ফাঁদ পেতে তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্তদের বোকা বানিয়েছেন তারা। তাড়াহুড়োয় একের পর এক উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন সফরকারী ব্যাটাররা। ১৪১ রান তাড়া করতে হলেও সেটা পারেনি বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহানের প্রতিরোধে কেবল হারের ব্যবধানই কমেছে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে ২৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ব্লেসিং মুজারাবানির শর্ট ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে ফাইন লেগেনিউম্যান নিয়ামুরির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। একটু পর আউট হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে টাইমিং করতে না পেরে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।

পরের ওভারে আউট হয়েছেন সৌম্য সরকারও। রিচার্ড এনগারাভার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় নিয়ামুরির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দুজনে জুটি গড়ে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও দুজনের কেউই দ্রুত রান তুলতে পারেননি। তবে সফরকারীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হৃদয় ও সোহান। তাদের জুটি ভাঙেন নিয়ামুরি।

বাঁহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে লাফিয়ে উঠে থার্ডম্যান দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন হৃদয়। তবে টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় বেন কারানের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরতে হয় তাকে। ৫৮ বলে ২৫ রান করেন তিনি। হৃদয়ের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের উইকেটও তুলে নেন নিয়ামুরি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মোসাদ্দেক ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটকিপারকে। ৭৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

হৃদয় ও মোসাদ্দেক ফেরার পর সোহানের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। বরং এনগারাভার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন ১০ রান করা বাংলাদেশের অধিনায়ক। একপ্রান্ত আগলে রেখে সফরকারীদের ভরসা হয়েছিলেন সোহান। শেষ পর্যন্ত তিনিও বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেননি।

ব্র্যাড ইভান্সের লেগ স্টাম্পের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরেছেন ৪৪ বলে ৩১ রান করা ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। দলের বিপর্যয়ে কিছুই করতে পারলেন না রিশাদ হোসেনও। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন ইভান্স ও এনগারাভা। এ ছাড়া ‍দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন মুজারাবানি ও নিয়ামুরি।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করেছিলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেট। তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙে রান আউটে। তাসকিন আহমেদের বিপক্ষে বল মিড অফে পাঠিয়ে দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়েছেন ১৮ রানে। একই ওভারে ফেরেন আরেক ওপেনার বেনেটও। তিনি আউট হয়েছেন ১৭ রানে। একটু পর ক্রেইগ আরভিনকেও ফেরান তাসকিন।

ডানহাতি পেসারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ২ রানের ভেতরে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা। বরং একের পর এক উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দেরা। নাহিদের গতিময় বোলিংয়ের সামনে কোনো জবাবই ছিল না জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের। ব্র্যাড ইভান্সকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছেন নাহিদ।

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফাইফার এখন ডানহাতি পেসারের। নাহিদের চেয়ে বেশি ৬বার ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামুরি মিলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটিও ভাঙেন নাহিদ। সবমিলিয়ে ১০ ওভারে ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৪১ রানে থামতে হয়েছে জিম্বাবুয়েকে। নাহিদের পাশপাশি দুইটি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন।

আরো পড়ুন: