বাংলাদেশের বিপক্ষে নামার আগেই ইতিহাস গড়ার চিন্তা ছিল জিম্বাবুয়ের

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ
ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ী জিম্বাবুয়ে দল, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ী জিম্বাবুয়ে দল, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশেরই এগিয়ে থাকার কথা। কিন্তু হারারেতে বাংলাদেশকে রীতিমতো গুড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে রোডেশিয়ানরা। বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হারানোর পর উচ্ছ্বসিত জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। তার দাবি, ম্যাচ শুরুর আগেই তাদের লক্ষ্য ছিল ইতিহাস গড়া, আর সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় এই জয়কে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

হারারেতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ইনোসেন্ট কাইয়ার ১৪০ রানের ইনিংসে ভর করে ৪১০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে ১৮৫ রানে অলআউট করে ইনিংস ও ৮৫ রানের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো টানা দুই টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের কীর্তি গড়েছে জিম্বাবুয়ে।

ম্যাচ শেষে এনগারাভা বলেন, 'আমাদের দারুণ একটি বোলিং আক্রমণ রয়েছে। ফলাফলই সেটা প্রমাণ করছে। ছেলেরা যে কঠোর পরিশ্রম করেছে, সেটাই আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সত্যি বলতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে নামার আগে আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, ইতিহাস গড়া। জিম্বাবুয়ে আগে কখনো টানা দুটি টেস্ট সিরিজ কিংবা অন্য কোনো সিরিজ জিততে পারেনি। তাই এই অর্জন আমাদের জন্য খুবই বিশেষ।'

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের ২০টি উইকেটই নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। প্রথম ইনিংসে ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরি নেন ৪ উইকেট। এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স নেন দুটি করে উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে মুজারাবানি ৪ উইকেট এবং এনগারাভা ৩ উইকেট শিকার করেন।

দলের সাফল্যের কৃতিত্ব সবাইকে দিয়েই এনগারাভা বলেন, 'যেকোনো খেলায় দল হিসেবেই খেলতে হয়। সবাই অবদান রেখেছে বলেই আমরা এই জায়গায় পৌঁছেছি। গত দুই মাসে ছেলেরা যে কঠোর পরিশ্রম করেছে, সেটাও বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা জানি, কোনো একজনের দিন ভালো গেলে সে দলকে এগিয়ে নেবে, আর বাকিরা তাকে সমর্থন দেবে। এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।'

তৃতীয় দিনের সকালে ব্লেসিং মুজারাবানি দ্রুত মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। পরে তিনি মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়কেও আউট করেন। যদিও পাঁচ উইকেট পাওয়া হয়নি, তবে ম্যাচের শেষ ক্যাচটি তালুবন্দি করেন এই অভিজ্ঞ পেসার।

মুজারাবানির প্রশংসা করলেও তরুণ পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরির জন্য আলাদা প্রশংসা করেন এনগারাভা। এই টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ মোট ৬টি উইকেট নেন নিয়ামহুরি।

জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বলেন, 'নিউম্যানের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে শেখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। ও এখনো অনেক তরুণ। আমি আর ব্লেসিং ওর সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারছি, এটা আমাদের জন্যও আনন্দের। খুব দ্রুত সে শিখছে, এটা দেখে আমি গর্বিত।'

২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানকে ইনিংস ও ৭৩ রানে হারানোর পর এবার বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় টেস্ট জিতেছে জিম্বাবুয়ে। অথচ ২০২১ সালের শুরু থেকে ওই আফগানিস্তান ম্যাচের আগে পর্যন্ত ১৮টি টেস্টে তাদের জয় ছিল মাত্র দুটি। এনগারাভার বিশ্বাস, কঠিন সময় পার হওয়ার অভিজ্ঞতাই দলকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এনগারাভা বলেন, 'জীবনে যেমন উত্থান-পতন থাকে, ক্রিকেটও তার ব্যতিক্রম নয়। খারাপ ও ভালো দুই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকেই শেখা যায়। কঠিন সময় পার হওয়াটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন আমরা বুঝে গেছি, কীভাবে ক্রিকেট খেলতে হবে এবং কীভাবে ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। আমরা নিজেদের পরিশ্রমের ওপর আস্থা রেখেছি, আর সেটার ফলই পাচ্ছি।'

জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক যোগ করেন, 'আমরা নিজেদের কন্ডিশন খুব ভালোভাবে জানি। ঘরের মাঠের সুবিধা আমাদের রয়েছে। যে দলই এখানে আসুক, কন্ডিশন সম্পর্কে আমরা তাদের চেয়ে ভালো জানি। এখন আমাদের দেশে শীতকাল চলছে, তাই আমরা জানতাম সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারলেই সফল হব।'

আরো পড়ুন: