‘সাকিব-মুশফিকদের কারণে মোসাদ্দেক আশা ছেড়ে দিয়েছিল’

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম, ফাইল ফটো
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সময় থেকেই বেশ পরিচিতি পান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের বড় তারকাও ভাবা হতো তাকে। জাতীয় দলের অভিষেকটাও দারুণ হলো। তবে,পরের পথচলাটা প্রত্যাশার ধারকাছেও ছিল না। দীর্ঘ চার বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হলো নিজের ফর্ম আর কিছুটা ভাগ্যের কারণেও। সেই সময়টায় জাতীয় দলের বাস্তবতা বুঝতে পেরে জাতীয় দলে খেলার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে জাত মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে সুখ্যাতি ছিল মোসাদ্দেকের। কিন্তু ২০১৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হলো সাত নম্বর পজিশনে। কেননা তখন জাতীয় দলের মিডল অর্ডারে খেলছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মত প্রতিষ্ঠিত তারকারা। নিজেকে সেখানেই মানিয়ে নেবার চেষ্টাতেও সফলই ছিলেন মোসাদ্দেক। ফিনিশার পজিশনে বাংলাদেশকে তাদের ইতিহাসের একমাত্র ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শিরোপাও জেতান তিনি।

কিন্তু একটা সময় নিজের সহজাত পজিশনের বাইরে বেশিদিন নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মোসাদ্দেক। দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে থাকতে ২০২২ সালে দীর্ঘ সময়ের জন্য জাতীয় দলের বাইরে চলে যান তিনি। তখনো সাকিব-তামিম-রিয়াদরা জাতীয় দলে খেলছেন নিয়মিত। তাই নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে জাতীয় দলে আবার খেলবেন সেই আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। চার বছর পর জাতীয় দলে মোসাদ্দেকের রাজসিক প্রত্যাবর্তনের পর মোসাদ্দেকের সেই কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছেন মোসাদ্দেকের ক্লাব আবাহনীর প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা হান্নান সরকার।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হান্নান বলেন, 'সত্যি বলতে, একসময় সে আশা ছেড়েই দিয়েছিল। তবে গত দুই বছরে সেই আশাটা আবার জাগতে শুরু করেছে, আর সেই জায়গাটাও ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়েছে। কখন সে আশা হারিয়েছিল? যখন মুশফিক, রিয়াদ ও সাকিব নিয়মিত খেলছিল। তিন বছর আগেও তারা আমাদের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, যখন ওই জায়গাগুলো তারা খেলছিল, তখন মোসাদ্দেকের আশা ক্ষীণ হয়ে যায়। পরে যা হয়েছে, তারা ধীরে ধীরে সরে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ওই তিন বছরে অন্য কোনো খেলোয়াড়ও সেই জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।'

এ প্রসঙ্গে হান্নান যোগ করেন, 'গত দুই বছরে তার আশাটা আবার জেগে উঠতে শুরু করেছে, কারণ সাকিব, মুশফিক, তামিম ও রিয়াদ ধীরে ধীরে সরে গেছেন। যখন সামনে কোনো লক্ষ্য থাকে না, তখন সবকিছুই ভিন্ন মনে হয়। কিন্তু যখন আপনি সামনে অর্জন করার মতো কিছু দেখতে পান, তখন নিজেকে নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। গত দুই বছরে মোসাদ্দেকের মধ্যেও সেই নতুন চিন্তাধারা ফিরে এসেছে, কারণ সে দেখতে পাচ্ছে যে পরিস্থিতি আবার তার পক্ষে তৈরি হচ্ছে এবং সে নিজের জন্য একটি জায়গা তৈরি করতে পারবে।'

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর মোসাদ্দেকের সমসাময়িক ক্রিকেটাররা অনেকেই নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না। তবে মোসাদ্দেক নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন এই সময়টায়। গত তিন বছর লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে দেশের সেরা পারর্ফমার এই ক্রিকেটার। গত মৌসুমে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হবার পর চলতি বছরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ছয় ইনিংসে ৩১০ রান করেন তিনি। তার গড় ছিল ৭৭.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৯.১৭। এই সময়ে তিনি একটি সেঞ্চুরি ও দুটি অর্ধশতকও করেন। শুধু ব্যাট হাতেই নয়,বল হাতেও ১২টি উইকেট শিকার করেন তিনি।

মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে মোসাদ্দদেকের প্রশংসা করে হান্নান বলেন, 'ঘটনা হলো, সে পাঁচ বা ছয় নম্বরে ব্যাট করার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী একজন ব্যাটসম্যান। ওই পজিশনে ব্যাট করা খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে নামতে হয় কখনো দশম ওভারে, আবার কখনো চল্লিশতম ওভারে। তাই সেই মুহূর্তে দলের কী প্রয়োজন, ম্যাচের পরিস্থিতি কেমন, কী ধরনের মানসিকতা বা কৌশল নিয়ে খেলতে হবে এসব বিষয়ে তার খুব ভালো ধারণা আছে এবং সে এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে খুবই পরিচিত।'

হান্নান আরও যোগ করেন, 'আবাহনীতে যা হয়েছে, তা হলো সে স্পিনারদের বিপক্ষে অনেক ব্যাটিং অনুশীলন করত, এখনও করে। পেস বোলিংয়ের ক্ষেত্রে, উইকেট ভালো হলে সে অনুশীলন করত, না হলে করত না। নেটে যখন ভালো উইকেট পাওয়া যেত, তখন সে পেসারদের বিপক্ষে ব্যাট করত। আর যখন উইকেট ভালো থাকত না, তখন সে স্পিনারদের বিপক্ষে অনুশীলন করত, কিন্তু পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাট করত না।'

আরো পড়ুন: