দুই টেস্টে খেলেই ৭ উইকেট শিকার করেন ডগেট, যেখানে তার সেরা বোলিং ছিল ৫১ রানে ৩ উইকেট। অ্যাশেজে তাকে মূলত তার গতির কারণে ব্যবহার করা হয়। গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথের সাহায্যে শর্ট বলের আক্রমণ চালানো ছিল তার কাজ, যা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত কৌশল। তবে ডগেট জানিয়েছেন, এমন ভূমিকা পালনের জন্য তিনি আগে থেকে প্রস্তুত ছিলেন না।
এ প্রসঙ্গে ডগেট বলেন, 'অ্যাশেজে যখনই বল হাতে পেয়েছি, বেশিরভাগ সময়ই শর্ট বলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না, কারণ এমন বোলিং আমার অচেনা নয়। তবে এত বেশি এই ভূমিকায় ব্যবহার করা হবে, সেটা আশা করিনি। তবুও কোনো অভিযোগ নেই। আবার সুযোগ পেলে একই কাজ করব। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাগি গ্রিন পরে খেলতে পারলে দলের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।'
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা লাল বলের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ডগেট ভবিষ্যতে নিজের স্বাভাবিক বোলিং স্টাইলে আরও বেশি বল করার সুযোগ চান। তবে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ খেলার অভিজ্ঞতাকেও তিনি স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, 'আরেকবার সুযোগ পেলে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যেভাবে বোলিং করি, সেভাবে আরও বেশি বল করতে চাই। ফিরে তাকালে মনে হয় কিছু বিষয় ভালোভাবে করতে পেরেছি। দলের জন্য বিশেষ একটি ভূমিকা পালন করেছি এবং সেটি যথেষ্ট ভালোভাবেই করেছি। ঘরের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজের অংশ হওয়া, বিশেষ করে গত এক দশকের অন্যতম বড় সিরিজে খেলা, সত্যিই স্বপ্নপূরণ।'
সিরিজে ডগেট মোট ২৯০ বল করেছেন, যার মধ্যে ১৪৫টিই ছিল শর্ট বল। অর্থাৎ মোট বলের ঠিক ৫০ শতাংশ। তার নেয়া সাতটি উইকেটই এসেছে লেগ সাইডে ক্যাচের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে এই চিত্র বদলাতে চান তিনি। মূলত আউটসুইং বোলার হিসেবে পরিচিত ডগেট ৫৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে নিয়েছেন ২০৩ উইকেট।
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেফিল্ড শিল্ডে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জায়গা পেয়েছিলেন জাতীয় দলে। এখনও অফ সাইডে কোনো উইকেট পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি ডগেটের। তার স্বপ্ন কোনো ব্যাটারের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়া বা এজ করিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা। এমন একটি উইকেট পেলে সাধারণের চেয়ে বেশি উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন ডগেট।
ডগেট বলেন, 'এখনও টেস্ট ক্রিকেটে অফ সাইডে কোনো উইকেট পাইনি। সবগুলোই এসেছে লেগ সাইডে বা শর্ট বল থেকে। কিন্তু প্রতিটি পেসারেরই স্বপ্ন থাকে ব্যাটসম্যানের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়া বা এজ করিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করা। ওই ধরনের একটি উইকেট পেলে হয়তো আমার প্রথম টেস্ট উইকেটের চেয়েও বেশি উদযাপন করব।'