তবুও দুই দলের ক্রিকেটারদের অপেক্ষার যেন শেষ নেই। মোহামেডানের ক্রিকেটারদের জন্য অপেক্ষাটা একটু বেশি। ডিপিএল লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের মর্যাদা পাওয়ার পর কখনো শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি সাদা-কালোদের। আবাহনীর ক্ষেত্রে সেটা পুরোপুরি আলাদা। ৫০ ওভারের ক্রিকেটের সবশেষ তিন আসরের সবকটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এবার জিততে পারলে টানা চারবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরতো আকাশী-নীলরা। সেটা অবশ্য হতে দেয়নি মোহামেডান।
যদিও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণটা একেবারে সহজ ছিল না তাদের জন্য। সকালের শুরুতে এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমনের সেঞ্চুরিতে চারশর বেশি রানের পুঁজি পায় মোহামেডান। শেষ বিকেলে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব হেরে যাওয়ায় শিরোপার সমীকরণটা সহজ হয়ে যায় সাদা-কালোদের জন্য। বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টি আইনে যেতে হতো অফিসিয়ালসদের। বৃষ্টি আইনে ৬৩ রানে এগিয়ে থাকায় জয়টা অনায়াসে অনিশ্চিত হয়েছে মোহামেডানের।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই উল্লাসে মেতে ওঠেন ক্রিকেটার থেকে সমর্থকরা। ক্রিকেটাররা সবাই মিলে মুশফিকুর রহিমকে কাঁধে তুলে নিলেন, আনন্দে ভাসলেন। সমর্থকরা সাদা-কালো পতাকা গায়ে জড়িয়ে ভুভুজেলা বাঁশি বাজিয়ে উদযাপন করছেন। কেউ কেউ তো আবারে ফ্লেয়ার বা স্মোক বোম ছড়িয়ে উল্লাস করছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন সাইফউদ্দিনও। তাতে ১৬ বছর ধরে ক্লাব ক্রিকেটে শিরোপা জিততে না পারার খরাও কাটল মোহামেডানের।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তিন নম্বর মাঠে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি আবাহনীর। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই সাব্বির হোসেনের উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তাইজুল ইসলামের অফ স্টাম্পের বাইরের লাফিয়ে ওঠা বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন সাব্বির। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় ডানহাতি এই ওপেনার। ভালো শুরু পেলেও ২০ বলে ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি সাব্বির। তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি জিসান আলম।
পাওয়ার প্লে শেষের আগেই ফিরতে হয় তাকে। মুশফিক হাসানের গুড লেংথ ডেলিভারিতে সোজা ব্যাটে মিড অফের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন জিসান। তবে টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় ৬ বলে ৫ রান করে। চারে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও। তাইবুর রহমানের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ৬ বলে ৯ রান করে ফিরেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
৭৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আবাহনী বিপাকে পড়লেও অন্যপ্রান্তে নিজের সহজাত ব্যাটিং করছিলেন অনিক সরকার। পরবর্তীতে এসএম মেহেরবকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরিও করেন ডানহাতি এই ওপেনার। জুটি গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মেহেরব। নাঈম আহমেদের বলে আউট হয়েছেন সাইফউদ্দিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৩৯ বলে ৩২ রান করেছেন তিনি।
চার উইকেট হারানোর পর বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হাল ধরেন অনিক ও সাব্বির রহমান। দুজনেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। আবাহনীর যখন ৪ উইকেটে ১৭৮ রান তখন বজ্রপাতের কারণে খেলা বন্ধ হয়। একটু পরই বৃষ্টি নামলে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ৮৫ অনিক এবং সাব্বির অপরাজিত ছিলেন ২২ বলে ২৪ রান করে। আর হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা আবাহনীকে বৃষ্টি আইনে হারতে হয়েছে ৬৩ রানে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মোহামেডানের শুরুটাও ভালো হয়নি। দ্রুতই ফিরতে হয় নাইম শেখকে। ১৭ বলে ১১ রান করে আউট হয়েছেন মেহেরবের বলে। প্রথম উইকেট হারানোর পর মোহামেডানের হাল ধরেন পারভেজ ও বিজয়। তারা দুজনে মিলে দলকে টানতে থাকেন। দ্রুত গতিতে রান তুলে ৪৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন বিজয়। আরেক ব্যাটার পারভেজ পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৫৩ বলে। হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করতেও খুব বেশি সময় নেননি বিজয়।
৯২ বলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৫তম সেঞ্চুরি করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ছাড়িয়ে গেছেন ২৪ সেঞ্চুরি করা তামিম ইকবালকে। জীবন পাওয়া পারভেজ সেঞ্চুরি করেছেন ৯৯ বলে। একশ ছোঁয়ার পর দুজনই আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠেন। ১০ চার ও ১১ ছক্কায় ১১৬ বলে ১৫০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা পারভেজের বিদায়ে ভাঙে তাদের দুজনের ২৪৮ রানের জুটি। একটু পর ফিরে গেছেন বিজয়ও। ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১১৫ বলে ১৪১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।
বিজয় ও পারভেজ ফেরার পর চারে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন আফিফ হোসেনও। ছয়টি চারের সঙ্গে চারটি ছক্কায় ৩৩ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এ ছাড়া আনিসুল ইসলাম করেছেন ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান। অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ৪০৬ রানের পুঁজি পায় মোহামেডান। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুঁজি। সবার উপরে থাকা প্রাইম ব্যাংক ৪২২ রান করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে।