২৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লেপার্ডসকে ভালো সূচনা এনে দেন ফর্মে থাকা দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও ইফতেখার ইফতি। ৮২ রানের জুটি গড়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। ইনিংসের ১৮ তম ওভারে আবরারকে ফেরান আজিজুল হাকিম তামিম। তামিমের বলে গ্লান্স করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন আবরার। তার ৬০ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটি ছিল দুটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজনো।
আবরারকে হারানোর পর বেশিক্ষণ টেকেননি ইফতিও। এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খাটো লেন্থের বলে স্লগ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ৪১ রান করা ইফতি। দারুণ খেলতে থাকা মুমিনুল হক এরপর লেপার্ডসের হাল ধরেন অধিনায়ক মিঠুনকে সাথে নিয়ে। কিন্তু খেলা বন্ধ হবার খানিকক্ষণ আগে তামিমের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে রায়ান রাফসান রহমানের হাতে ক্যাচ দেন ৩০ বলে ৩৩ রান করা মুমিনুল।
লেপার্ডসের রান যখন ৩ উইকেটে ১৪২ তখন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়। পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি আইনে ১০ রানে ম্যাচ হেরে শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি ২০১৪-১৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নদের। একাদশ রাউন্ডের অন্য ম্যাচে মোহামেডান আবাহনীর বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ৬৩ রানের জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে।
এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) চার নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই রিজান হোসেনের উইকেট হারায় প্রাইম ব্যাংক। ফাহাদের বলে মিড অফে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানেই ফেরেন রিজান। এরপর রাফসানকে সাথে নিয়ে ১৩৬ রানের দারুণ জুটি গড়েন তামিম। লেপার্ডস যখন এই জুটি ভাঙতে গলদঘর্ম তখন আবারও ত্রাতা হয়ে হাজির ফাহাদ। এবার ফাহাদের বলে পুল শট করতে গিয়ে মিড উইকেটে পারভেজ জীবনের তালুবন্দি হন রাফসান (৫৭)।
এক ওভার পরেই প্রাইম ব্যাংক শিবিরে আঘাত হানেন হাসান মুরাদ। ৯২ বলে এক ছক্কা ও সাত চারে ৭১ রান করে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে মিড উইকেটের ফাহাদের ক্যাচে পরিণত হন তামিম। তামিমের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী। অনেকটা একই কায়দায় খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে জীবনের তালুবন্দি হন ১ রান করা শামীম।
এরপর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে পরপর তিন উইকেট হারানোর ক্ষতে প্রলেপ দেবার চেষ্টা করে অধিনায়ক আকবর আলী। এই দুইজনের ৫৯ রানের জুটি ভাঙেন ফাহাদ। পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে মমিনুলের তালুবন্দি হন মাহমুদউল্লাহ (২৪)। দ্রুতগতির ফিফটি করে প্রাইম ব্যাংকের ভরসা হয়ে টিকে থাকা আকবরও ফিরে যান ফিফটির পরপরই। মুরাদকে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে জীবনের তালুবন্দি হন তিনি। আউট হবার আগে করেন ২ ছক্কা ও চারটি চারে ৩৮ হলে ৫১ রান।
আকবর আউট হবার পর আগের ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের নায়ক আবু হায়দার রনি কিছুটা চেষ্টা চালালেও সফল হননি। ২৩ বলে ২৫ রান করে তিনিও শিকার হন ফাহাদের। এরপর এনামুল হককে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেটও পূর্ণ করেন ফাহাদ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৬৬ রানে শেষ হয় প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস। প্রাইমের হয়ে ফাহাদ পাঁচটি ও মুরাদ তিনটি উইকেট নেন।