বাংলাদেশের বড় দল হতে যাচ্ছে এর প্রমাণ লিটনের ব্যাটিং: শান্ত

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
লিটন দাস
লিটন দাস
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সিলেট টেস্টে টস জিতে বোলিং বেছে নিয়েছিল পাকিস্তান। উদ্দেশ্য ছিল সবুজ ২২ গজ আর সিলেটের আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে গুড়িয়ে দেওয়া। ১১৬ রানেই বাংলাদেশের ছয় উইকেট তুলে নিয়ে সেই উদ্দেশ্যে প্রায় সফলও হয়েছিল তারা। কিন্ত সেখানেই বাঁধ সাধেন লিটন দাস। টেলএন্ডারদের সাথে নিয়ে ১২৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই ব্যাটার। সিলেট টেস্ট জেতার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, বাংলাদেশ যে বড় দল হয়ে উঠছে তার প্রমাণ লিটনের এমন ইনিংস।

দলের বিপর্যয়ে লিটনের এমন ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভাব হওয়া এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ২৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। পরে সেই টেস্ট জিতে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। দলের বিপর্যয়ের মূহুর্তগুলোতে লিটনের এমন ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে শান্তকে। সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব লিটনকেই দিতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, 'আমার মনে হয় লিটন অসাধারণ। মানে এটা আসলে দলের জন্য খেলা আসলে যাকে বলে, আমি বলব যে ওর সেরা শতকের একটি আমি মনে করি। ওই জায়গায় লিটন ভাই যেভাবে দায়িত্বটা নিয়ে ব্যাটিং করেছে, এটাই আসলে একটা বড় দল হওয়ার লক্ষ্যে যে যাচ্ছে এটা বোঝা যায়।'

টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব লিটনকে দিয়ে শান্ত যোগ করেন, 'আমি বলব যে এই টেস্ট ম্যাচে এই যে আমরা ম্যাচটা জিতলাম, সব থেকে বড় কৃতিত্ব আমার মনে হয় লিটনের ওই সময়কার ব্যাটিং। অন্যথায় আমরা ওই প্রথম ইনিংসেই অনেক পেছনে পড়ে যেতাম।'

১১৬ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর টেলএন্ডারদের সাথে নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭৮ রানে নিয়ে যান লিটন। লিটনকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে শেষদিকে মোট ৮৭ বল মোকাবেলা করে আরেকপ্রান্ত আগলে রাখেন তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। লিটনের পাশাপাশি তাই টেলএন্ডারদেরও কৃতিত্ব দিতে চান শান্ত।

টেলএন্ডারদের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, 'কৃতিত্ব তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুল, রানা তাদের কেউ অবশ্যই দিতে হবে। ড্রেসিংরুমে ওই বিশ্বাসটা সবার ছিল যে এখান থেকে তাইজুল ভাই একটা সহায়তা দিবে এবং লিটন রান করতে থাকবে এবং লিটনও মাঠ থেকে বার্তা পাঠিয়েছিল একবার আমার কাছে যে আসলে কোন পদ্ধতিতে খেলবে। তাই খুব ভালো একটা যোগাযোগ হচ্ছিল। টেলএন্ডারদের ব্যাটিং নিয়ে সবসময় আমরা অনেক বেশি ভুগেছি। কিন্তু এই সিরিজে আমি বলবো বিরাট উন্নতি করেছি আমরা।'

আরো পড়ুন: