শেষ এক ঘণ্টার আবেগটা ব্যাখ্যা করা মুশকিল: শান্ত

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
সিরিজ জয়ের ট্রফি হাতে নাজমুল হোসেন শান্ত, ক্রিকফ্রেঞ্জি
সিরিজ জয়ের ট্রফি হাতে নাজমুল হোসেন শান্ত, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পঞ্চম দিনের সকালে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের দৃঢ় প্রতিরোধে কিছু সময়ের জন্য চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দিনের শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন দুই ব্যাটার, দ্রুত রান তুলতে থাকায় ম্যাচে নতুন রোমাঞ্চ তৈরি হয়। তাদের জুটি দেখে একসময় শঙ্কা জাগে নাজমুল হোসেন শান্তর মনে। ম্যাচ আবার পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে ভেবেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক এবং পুরো দল। ম্যাচ শেষে তা অকপটে স্বীকার করেছেন শান্ত।

৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দিন শুরু করেছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। এরপর রিজওয়ান-সাজিদরা প্রায় প্রতি ওভারেই হাঁকান বাউন্ডারি। এই দুজনের প্রতিরোধ ভাঙেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সকালের প্রথম ঘণ্টায় দারুণ ধৈর্য দেখিয়ে ব্যাট করলেও ৫৪ রানের জুটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় তাইজুলের ঘূর্ণিতে।

২৮ রান করা সাজিদ স্লিপে ক্যাচ দিলে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। এরপর পরের ওভারেই আরও বড় সাফল্য আসে। শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৯৪ রান করা রিজওয়ান। ১৬৬ বলের লড়াকু ইনিংসে ছিল দশটি চারের মার।

রিজওয়ানের বিদায়ের পর দ্রুতই অল আউট হয় পাকিস্তান। শেষ ব্যাটার খুররম শেহজাদকে ফেরানোর মাধ্যমে ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৫৮ রানে, আর তাতেই ৭৮ রানে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

সকালের চাপ নিয়ে শান্ত বলেন, 'এই শেষ এক ঘণ্টার আবেগটা ব্যাখ্যা করা মুশকিল। কারণ সত্যি বলতে ওরা ভালো ব্যাটিং করছিল, আমরা একটু চাপে পড়েও গিয়েছিলাম, সত্যি বলতে। আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর থেকে আস্তে আস্তে এখন ওই আবেগটাকে নিয়ন্ত্রণ করা, আতঙ্কিত না হওয়া, এই জিনিসটা একটু ভালো হয়েছে আমি বলব।'

'এই জায়গাটাতে আরও একটু উন্নতির দরকার আছে। বড় দলগুলো হয়তো আরও শান্ত থাকে। কিন্তু এই জায়গাটাতে উন্নতি হয়েছে। তাই, এই জায়গা থেকে আমি খুশি অধিনায়ক হিসেবে। আর সামগ্রিকভাবে হ্যাঁ, ১০ দিনে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পেরেছি, এটা অবশ্যই গর্বের ব্যাপার।'

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে লিটন দাসের ১২৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২৭৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ২৩২ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য।

দলের অপর কৃতিত্ব দিয়ে শান্ত আরো বলেন, 'পুরো দল হিসেবে খেলতে পেরেছি, প্রত্যেকটা খেলোয়াড় যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে, ব্যাটসম্যান, বোলার, যারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি, কোচিং স্টাফ, দলে যারা সহায়তা করার জন্য থাকেন, সবার আমার মনে হয় অবদান ছিল এবং সবাই চাচ্ছিল যে আরেকবার আমরা এরকম একটা ভালো ফল করতে পারি কি না।'

আরো পড়ুন: