২০১৬ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে টেস্ট র্যান্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই সাফল্যকে পরের প্রজন্ম যেখানে ছাড়িয়ে যাবার কথা, সেখানে ধীরে ধীরে অবনমন হয়েছে পাকিস্তানের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সবশেষ দুইটি আসরে সাত ও নয় নম্বরে থেকে শেষ করেছে পাকিস্তান। এবারেও তারা আছে আট নম্বরে। পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন অবনমনে তাই বেশ হতাশ শেহজাদ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শেহজাদ বলেন, 'আপনারা আর কোথায় নামবেন এর চেয়ে নিচে? এখন এটা বলা হোক যে এর চেয়ে নিচে আর কী আছে? যে বাংলাদেশের কাছে আপনারা রীতিমতো নাস্তানাবুদ হয়ে সিরিজ হারছেন, ভাই!'
এ প্রসঙ্গে শেহজাদ যোগ করেন, 'পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অবস্থা খুবই নাজুক এবং এখন যে নতুন একটা চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে, তা হলো ম্যাচটি জেতার জন্য ৪৩৭ রান করতে হবে, যা একটি বিশ্বরেকর্ড রান তাড়া করা হবে। কারণ ঢাকার টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ৫২ ওভারই ব্যাট করতে পেরেছিল। আর এখন আপনাদের ১৯০ ওভার ব্যাটিং করতে হবে।'
প্রথম টেস্টে দুই অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস ছাড়া ব্যর্থ ছিলেন পাকিস্তানের প্রায় সব ব্যাটার। প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেও যেভাবে নিজেদের ব্যাটিং প্রতিভার জানান দিয়েছেন এই দুই ব্যাটার, সেখানে অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও হতাশ করেছেন। পাকিস্তানের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়েও তাই বেশ হতাশ শেহজাদ। বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রশংসা করে মুশফিকুর রহিমদের মত ব্যাটারদের কাছ থেকে শিক্ষা নেবার পরামর্শ তার।
এ প্রসঙ্গে শেহজাদ বলেন, 'ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম তা-ই করেছেন, যা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের করা উচিত ছিল। লিটন দাস দুই ইনিংসেই পাকিস্তানকে একেবারে, আপনারা জানেন, অসহায় করে ছেড়েছেন। আর তিনি যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন ওরাই পাকিস্তানের দল আর আমরা বাংলাদেশের দল।'
শেহজাদ যোগ করেন, 'আজ মুশফিকুর রহিম দেখিয়েছেন যে কীভাবে খেলতে হয়? ক্রিজে টিকে ছিলেন না তিনি? লড়ে গেছেন, একদিক আগলে রেখেছিলেন। আর শেষ দিকে তো আপনারা এমন খেলছিলেন যেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছেন। আপনাদের বোলাররা খুঁড়াচ্ছে আর সে (মুশফিক) দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে খেলতে হয়। টেম্পারামেন্ট দেখিয়েছে। লিটন দাস দুই ইনিংসেই আপনাদের দেখিয়েছেন যে খেলাটা আসলে কীভাবে খেলতে হতো।'