ওরা পেস দেখলেই ভয় পায়, তাইজুল তো ভয় পায়নি: বাসিত

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
বাসিত আলী, ফাইল ফটো
বাসিত আলী, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‎মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির পর মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি মিরাজ-তাসকিন আহমেদরাও বল হাতে অবদান রেখেছিলেন। অনেকটা একই ধারা অব্যাহত আছে সিলেট টেস্টেও। পাকিস্তান যে দুই টেস্টেই পুরো বাংলাদেশ দলের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে তা মেনে নিচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী।

‎সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংস বাংলাদেশের ২৭৮ রানের জবাবে ২৩২ রান তুলেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিনে ১১০ রানেই বাংলাদেশের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরা ইঙ্গিতও দিয়েছিল শান মাসুদের দল। কিন্তু তৃতীয় দিনে দারুণ ব্যাটিং ম্যাচ থেকে পাকিস্তানকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশ। বাসিত মনে করেন, ৩০০-৩৫০ রানের মধ্যে লক্ষ্য থাকলে সেটা পাকিস্তান তাড়া করতে পারত।

‎নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাসিত বলেন, 'কোনো সন্দেহ নেই, চতুর্থ ইনিংস অনেক কঠিন হয়, কিন্তু কাল আপনাদের বলেছিলাম এই পিচ খুব ভালো। এতে ৩০০-৩৫০ রান তাড়া করা সম্ভব। তো আপনারা বললেন যে, পাকিস্তান কখনো এত রান তাড়া করেনি, এত তাড়া করেনি, সেটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু কাল আপনাদের যে কথাটা বলেছিলাম না, পিচটা খুব ভালো, সেটা আজ প্রমাণিত হয়েছে।'

‎মাঠে পাকিস্তানের শরীরী ভাষায়ও বেশ বিরক্ত বাসিত। পুরো টেস্ট সিরিজেই টেলএন্ডার হিসেবে দারুণ অবদান রাখা তাইজুল ইসলামের উদাহরণ টেনে বাসিত জানান, পাকিস্তানের টেলএন্ডারদের বাংলাদেশী পেসারদের সামনে ভীতু মনে হচ্ছে তার। সমালোচনা করেন, দলের বিপর্যস্ত অবস্থায় হাসান আলীর বাড়তি উদযাপনকেও।

‎এ প্রসঙ্গে বাসিত বলেন, 'তাইজুল পারলে পাকিস্তানের টেইল এন্ডাররা কেন পারে না? পেস দেখলেই ভয় পেয়ে যায়, তাইজুল তো ভয় পায়নি। হাসান আলী লিটনকে আউট করে যেভাবে উদযাপন করেছে মনে হলো পাঁচ উইকেট পেয়েছে।'

‎বাসিত যোগ করেন, 'মুশফিকুর রহিম এমন কী ছক্কা-চার মেরেছে? মেরিটের ওপর খেলেছে, তাই না? যেমন বল, তেমন খেলেছে। তো টেস্ট ম্যাচ সবকিছুরই পরীক্ষা, তাই সে সেই অনুযায়ী খেলেছে। লিটন দাসের যে খেলা, সে সেভাবেই খেলেছে। প্রথম, আমার মনে হয় এটা তার তৃতীয়বার একই টেস্টে ১০০ এবং ৫০ করা। লিটন দাসের খুব বড় অর্জন।'

তৃতীয় দিনের শেষ সেশনেরও একেবারে শেষ প্রান্তে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দশ ওভারের মত পাকিস্তানের ব্যাট করার কথা থাকলেও আলোকস্বল্পতার কারণে মাত্র দুই ওভার ব্যাটিং করতে পারে পাকিস্তান। সেখানে কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করেন দুই ওপেনার। পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে বাসিত বলেন, আরও কয়েক ওভার ব্যাট করলে পাকিস্তান নিশ্চিতভাবেই উইকেট হারাত।

বাসিত বলেন, 'পাকিস্তানের শোকর করা উচিত যে বাংলাদেশ দেরিতে ব্যাটিং শেষ করেছে, নাহলে পাকিস্তানের এক দুই উইকেট চলে যেত। তাসকিন শরিফুল কে পাকিস্তানি ব্যাটারদের আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে, এরপরেই আসবে বাংলাদেশের শোয়েব আখতার, নাহিদ রানা।'

আরো পড়ুন: