প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করা মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসেও ওপেনাররা দ্রুত ফিরে যাবার পর বাংলাদেশের হাল ধরেন। মুমিনুলের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে কিছুটা ধৈর্যচ্যুতি ঘটে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের। মুমিনুলের মনযোগে চিড় ধরাতে তাকে স্লেজিং করতে শুরু করেন প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করা আব্বাস। কিন্তু আব্বাসের স্লেজিংও মুমিনুলকে টলাতে পারেনি। ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে নানান প্রতিকূলতাই মুমিনুলকে এমন পরিস্থিতি সামলাতে শিখিয়েছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ বলেন, 'মুমিনুলের এটা ৭৬তম টেস্ট ম্যাচ চলছে। বাংলাদেশের হয়ে ৫০০০ রানও পূর্ণ করলো। এ ধরণের চ্যালেঞ্জ তো সে প্রচুর নিয়েছে তার জীবনে এবং সে সফল হয়েছে। অতীতেও এরকম অনেক ইনিংস আমরা দেখেছি। এ ধরণের পরিস্থিতি কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় তা সে জানে। অভিজ্ঞতার কারণেই এই জিনিসটা হয়। সে আজ শান্তই ছিল। স্লেজের বিপরীতে সে কিছু করার চেষ্টা করেনি।'
ক্যারিয়ারের শুরুতে বড় ইনিংস খেলাটাকে অনেকটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিলেন মুমিনুল। কিন্তু ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর সেঞ্চুরি আসেনি মুমিনুলের ব্যাট থেকে। সবশেষ পাঁচ ইনিংসেই ফিফটির দেখা পেলেও একটিও সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে, বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মনে করেন, দলের জন্য প্রায় প্রতি ইনিংসেই মুমিনুলের অবদান রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখনও লম্বা পথ বাকি থাকলেও মুমিনুলকে ১০০ টেস্ট খেলতে দেখতে চান আশরাফুল।
এ প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, 'শেষ পাঁচটি ইনিংস যদি দেখেন—দুইটি ৮০, একটি ৯০ (৯১), একটি ৬০ এবং আজ ৫৬। তো আলহামদুলিল্লাহ প্রতি ইনিংসেই সে অবদান রাখছে। মুশফিকের পর সে এখন দ্বিতীয় ব্যক্তি যে ১০০তম টেস্ট খেলার খুব কাছে আছে, যদিও ২৪টি ম্যাচ বাকি আছে। তবে আমি আশা করি বাংলাদেশের হয়ে সে দ্বিতীয় ব্যক্তি হবে যে ১০০তম টেস্ট খেলবে।'