প্রথম ইনিংসে সাড়ে চারশ রানের বেশি করতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
মুমিনুল হক, ক্রিকফ্রেঞ্জি
মুমিনুল হক, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের সকালটা ভালো যায়নি বাংলাদেশের। বাইশ গজে সবুজ ঘাস আর নতুন বলের সুইং আর মুভমেন্টকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশ কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছিলেন পাকিস্তান পেসাররা। কঠিন সেই পরীক্ষা উতরাতে পারেননি বাংলাদেশের ওপেনাররাও। তবে ওপেনারদের ব্যর্থতার চেয়ে এখানে পাকিস্তানের পেসারদেরই বেশি কৃতিত্ব দিতে চান প্রথম দিনে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পোড়া মুমিনুল হক।

‎মিরপুরের সবুজ পিচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে উইকেটের ফায়দা নিতে চেয়েছিল পাকিস্তান। শুরুর এক ঘন্টায় সেই পরিকল্পনায় অনেকটা সফলও ছিল তারা। নতুন বলে দুই প্রান্ত থেকেই সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়ের কঠিন পরীক্ষা নিতে থাকেন শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস। এই দুই পেসারের পেস আর মুভমেন্টে বারবার পরাস্থ হচ্ছিলেন দুই ওপেনার।

‎একবার জীবন পেয়েও আফ্রিদির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জয়। ১১ তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই পিচ থেকে সাহায্য পেতে থাকেন হাসান আলীও। স্পেলের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সাদমানকে। ৩১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদেও পড়ে বাংলাদেশ। তবে ভালো বলে আউট হওয়ায় দুই ওপেনারকে দুর্ভাগা মনে করেন মুমিনুল । শুধু সময়টা কাটিয়ে দিয়ে আসায় ওপেনারদের কৃতিত্বও দিলেন তিনি।

‎দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, 'সবমিলিয়ে চিন্তা করলে আমার কাছে মনে হয় এই উইকেটে নতুন বলে চ্যালেঞ্জ অনেক। আপনারা নিজেরাও দেখেছেন দুই দিক দিয়ে বল মুভ করছিল, সিম হচ্ছিল। আমাদের দুই ওপেনার দুর্ভাগ্যক্রমে আউট হয়েছে, দুজনই ভালো বলে আউট হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় ওই জায়গায় ওরা যতুটুক খেলেছে ওইটাতে আমরা অনেকটা এগিয়ে গেছি।'

‎শুরুর এই চাপ আর বাড়তে দেননি সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্ত। ওপেনারদের ফিরিয়ে বাংলাদেশের ওপর আরও জেকে বসতে চাওয়া পাকিস্তানের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শান্তর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্যই পাকিস্তান বোলিংয়ে খেই হারিয়েছে বলে মনে করেন মুমিনুল।

‎এ প্রসঙ্গে মুমিনুল বলেন, 'শান্ত এসে যেভাবে কাউন্টার অ্যাটাক করেছে ওইটাতে ওরা অনেকটা পিছিয়ে গেছে। এরকম একটা উইকেটে যখন একজন ব্যাটার এসে এরকম কাউন্টার অ্যাটাক করে তখন আসলে বোলারদের কিছু করার থাকে না। পুরো কৃতিত্ব শান্তকে দিতে হবে। শেষে গিযে মুশফিক ভাইও ভালো শেষ করেছে।'

‎টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছিলেন প্রথম ইনিংসে চারশ রান করার লক্ষ্যের কথা। সেই পথে বেশ ভালোভাবেই আছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিনের সকালের মতো দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলেই ধারণা মুমিনুলের। দুই অপরাজিত ব্যাটার মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস সকালটা ভালোভাবে কাটিয়ে দিতে পারলে বাংলাদেশের রান সাড়ে চারশরও বেশি হতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।

‎দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনা নিয়ে মুমিনুল বলেন, 'কালকে সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন বলে একটু চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে। আল্লাহর রহমতে এক ঘণ্টা যদি আমরা উইকেট না হারিয়ে খেলতে পারি তো আমার কাছে মনে হয় যে চারশ বা সাড়ে চারশ পার হতে পারে। প্রথম এক ঘণ্টাটা যদি ভালোভাবে শুরু করতে পারি তাহলে খেলাটা আমাদের পক্ষে আসবে কারণ এখন উইকেটে অনেক কিছু হচ্ছে।'

আরো পড়ুন: