লাথামের নেতৃত্বে বাংলাদেশে যারা খেলতে এসেছেন তাদের প্রায় সবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও অভিজ্ঞতায় অনেকটা পিছিয়ে থাকবেন। বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে দলে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ অধিনায়ক লাথাম। এখনো পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১৬৩ ওয়ানডে খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। বাকিরা জাতীয় দলের হয়ে কেউ দুইটি আবার কেউ খেলেছেন তিনটি ৫০ ওভারের ম্যাচ।
জশ ক্লার্কসন নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাত্র তিনটি ওয়ানডে খেললেও সবমিলিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ম্যাচ খেলেছেন ১০৫টি। একশ ছাড়ানো লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে নিক কেলিরও। যদিও কিউইদের হয়ে তিনটির বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি। তাদের বাইরে মুহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, জেডন লেনক্স, উইল ও’রুর্কিদের কারও লিষ্ট ‘এ’ ক্রিকেটে একশ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই।
জাতীয় দলের হয়ে খুব বেশি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও লাথামের বিশ্বাস সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কের চাওয়া, ঘরোয়া ক্রিকেটে তারা যেভাবে খেলে সেভাবেই যেন বাংলাদেশের বিপক্ষেও খেলে। এ প্রসঙ্গে লাথাম বলেন, ‘দেখুন—আমি মনে করি আমরা তাদের কাছে শুধু এটাই চাই যে তারা যেন তাদের নিজস্ব দক্ষতা কাজে লাগায়। যে কারণে তাদের দলে নেওয়া হয়েছে সেটা যেন করে। আমাদের অবশ্যই খেলার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা স্টাইল আছে।’
‘আমি চাই তারা যেন নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলে এসেছে ঠিক সেভাবেই এখানে খেলে। আপনি যদি পুরো স্কোয়াডের দিকে তাকান, সবাই কোনো না কোনো সময় নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছে। তাই এটি এমন কোনো দল নয় যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কে জানে না। তবে হ্যাঁ, আমাদের অন্য খেলোয়াড়দের মতো তাদের হয়তো খুব বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই আমরা চাই তারা যেন নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং যেভাবে খেলতে চায় সেভাবেই খেলার সেরা সুযোগটি কাজে লাগায়।’
২০২১ সালে অধিনায়ক হিসেবে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসেছিলেন লাথাম। তবে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাঁহাতি ব্যাটারের। বেশিরভাগ ক্রিকেটারের জন্যই কন্ডিশন একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে আব্বাস, অশোক, নিক কেলি, ডিন ফক্সক্রফট, লেনক্স, ক্লার্কসনের ‘এ’ সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে তাদের। খানিকটা আনকোরা দল হলেও সিরিজ জেতার লক্ষ্যেই বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানিয়েছেন লাথাম।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক বলেন, ‘হ্যাঁ, লক্ষ্য তো অবশ্যই সেটি (সিরিজ জেতা)। আমরা এখানে সিরিজ জেতার উদ্দেশ্যে এসেছি। সবারই এটা প্রধান লক্ষ্য। তবে আমরা জানি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচ থেকে শেখা এবং ধাপে ধাপে উন্নতি করা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলে কিছু কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে এই কন্ডিশনে।
‘কিন্তু বাংলাদেশের মতো জায়গায় তারা যত বেশি খেলবে তাদের জন্য ততো ভালো হবে। যদি আমরা প্রতিটি ম্যাচ থেকে শিখতে পারি, তবে সিরিজের শেষ দিকে আমরা নিজেদের ভালো করার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারব। আমার মতো যারা অভিজ্ঞ আছে বা যারা আগে এই কন্ডিশনে খেলেছে, তাদের দায়িত্ব হলো নতুনদের কাছে তথ্য এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি ঠিকঠাক মতো করব। তবে মাঠে গিয়ে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’