টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে শুরু হয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। টেস্ট খেলুড়ে পুরনো দেশগুলো সমান সংখ্যক সিরিজ খেলে। তবে প্রতিটি দেশের ম্যাচের সংখ্যা একই নয়। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের মতো দেশগুলো বেশিরভাগ সময় পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলায় তাদের ম্যাচের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কম সংখ্যক টেস্ট খেলে।
আগামী চক্রে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্ত করা হতে পারে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলোকে। বেশিরভাগের দেশের ক্রিকেটাররা এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত সময় পার করে। এমন অবস্থায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দল বাড়লে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। যার ফলে সূচি মেলাতে বেগ পেতে হতে পারে বোর্ডদের। এজন্য এক টেস্টের সিরিজ আনার কথা ভাবছে আইসিসি।
নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান রজার টোয়োসের নেতৃত্বে ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামো নিয়ে কাজ করছে। গত বছর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান ফরম্যাট বদলে দুই স্তরের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো দলগুলোকে। একাধিক পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিতে সেটি বাস্তবে রূপ দেয়া যায়নি। দুই স্তরের টেস্ট ক্রিকেটের পরিকল্পনা থেকে বেড়িয়ে সব দেশকে নিয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করতে চায় আইসিসি।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে, ক্রিকেটের মান উন্নত করতে টেস্ট ক্রিকেটের বিকল্প নেই। তাই পূর্ণ সদস্য সব দেশকেই যথেষ্ট পরিমাণ টেস্ট ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। আফগানিস্তান, জ়িম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হওয়ায় বছরে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা দেশগুলোও এই তিন দেশের সঙ্গে টেস্ট খেলতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। তাই পূর্ণ সদস্য সব দেশকে সমান সুযোগ দিতেই আইসিসি এই উদ্যোগ।
এক টেস্টের সিরিজগুলোকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্ত করা গেলে ছোট দলগুলোর জন্য বড় দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ আয়োজন আর্থিকভাবে বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। বর্তমান ফরম্যাট অনুযায়ী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত সিরিজে অন্তত দুটি টেস্ট থাকতে হয়, যা অনেক সময় ভারত,অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর জন্য আর্থিক লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই এসব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।