তিন ম্যাচের এই সিরিজে মূলত একই একাদশ নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটে এটি খুব বেশি দেখা না গেলেও পুরোপুরি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্স করা সত্ত্বেও সৌম্য সরকারের একাদশে জায়গা না পাওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
এই সিরিজে উদ্বোধনী জুটিতে সুযোগ পেয়েছেন তানজিদ ও সাইফ। প্রথম দুই ম্যাচে সাইফ ব্যর্থ হলেও দল শেষ ম্যাচেও একাদশে পরিবর্তন আনেনি। শেষ ম্যাচে অবশ্য তানজিদের সঙ্গে শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন সাইফ, যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ৩৬ রান করে আউট হন।
সিরিজের শেষ ম্যাচের পর মিরাজ বলেন, 'আমরা চাচ্ছি যে, একজন ক্রিকেটার যেন সুযোগ বেশি পায়। কোনো সন্দেহ নেই, সৌম্য সরকার সবশেষ সিরিজটা অনেক ভালো খেলেছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে হয়তো একটু ছন্দে ছিল না। (তানজিদ) তামিম এবং সাইফ হাসান ওরা ভালো ছন্দে ছিল। আমরা ওভাবে পরিকল্পনা করেছি।'
অধিনায়ক মনে করেন, শেষ ম্যাচে সাইফকে বাদ দিয়ে সৌম্যকে খেলানো হলে তা দুই ক্রিকেটারের জন্যই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত, 'সাইফ দুই ম্যাচে রান করতে পারেনি। কিন্তু আজকে যদি ওকে বসিয়ে সৌম্য সরকারকে খেলাতাম, তাহলে সাইফের আত্মবিশ্বাসও নিচু থাকত। আবার সৌম্য যদি ভালো খেলতে না পারত, তাহলে ওর জন্যও কঠিন হয়ে যেত।'
মিরাজের মতে, ব্যাটসম্যানদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া জরুরি। তার ভাষায়, 'আমরা যে জিনিসটা চেষ্টা করছি, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে, তারা যেন বেশি সুযোগ পায়। খারাপ খেললে সে নিজেই বুঝতে পারবে যে হয়তো জায়গাটা অন্য কাউকে দিতে হবে।'
সৌম্য সরকারের সাম্প্রতিক ঘরোয়া পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'সৌম্য কিন্তু সবশেষ সিরিজের আগের দুই সিরিজে দলে ছিল না। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে টানা তিনটি ম্যাচ খেলিয়েছি। একজন ব্যাটসম্যান ছন্দে না থাকলে সিদ্ধান্ত নেয়াটাও কঠিন হয়ে যায়।'
শেষ পর্যন্ত দলের পরিকল্পনার কথাই তুলে ধরেন মিরাজ। তার মতে, একজন ক্রিকেটারকে এক–দুটি ম্যাচ দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়, 'একটি-দুটি সুযোগ দিয়ে একজন ব্যাটসম্যানকে বিচার করা যাবে না। সৌম্য সরকারের আবার সুযোগ এলে তাকেও সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়া হবে। সামনে বিশ্বকাপ, সেই পরিকল্পনা মাথায় রেখেই দল গুছানো হচ্ছে।'