ম্যাচ ও সিরিজ জিততে শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। ব্যাটিংয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদির সঙ্গে ছিলেন আরবার আহমেদ। লেগ স্পিনার রিশাদের প্রথম বলে রান বের করতে পারেননি শাহীন আফ্রিদি। পরের বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। তবে সেটা লুফে নিতে পারেননি রিশাদ। ম্যাচের সমীকরণ ৪ বলে ১৪ রান। তৃতীয় বলে দুই রান নিলেও চতুর্থ বলে আবারও ডট দেন শাহীন আফ্রিদি।
শেষ ২ বলে যখন ১২ রান প্রয়োজন রিশাদ ডেলিভারিটা করলেন লেগ স্টাম্পের একটু বাইরে। টার্ন করে সেটা আরেকটু বেরিয়ে যাওয়ায় আম্পায়ার ওয়াইডের সিদ্ধান্ত জানাতে সময় নিলেন না। প্রথম দেখায় ওয়াইড মনে হলেও পরোক্ষণেই রিভিউ রিভিউ নেন মিরাজ। আইপিএলে ওয়াইড সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটার প্রচলন এখনো শুরু হয়নি।
বাংলাদেশ অবশ্য লেগ বিফোর উইকেটের রিভিউ নেয়। পরবর্তীতে টিভি রিপ্লেতে আলস্ট্রা এজে দেখা যায় বল শাহীন আফ্রিদির ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। যার ফলে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতে হয় ধর্মসেনাকে। এমন অবস্থায় ২ বলে ১১ রানের সমীকরণ হওয়ার পরবর্তীতে পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১২ রান। শেষ বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয় ১১ রানে। ২ বলে ১১ রানে সমীকরণ হলে হয়ত ভিন্ন কিছু হতেও পারতো। তবে সেই রিভিউটি বাংলাদেশের পক্ষে আসায় ১ বলে ১২ রানের সমীকরণ মেলানো শাহীন আফ্রিদির জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। ম্যাচ শেষে মিরাজ জানালেন, শান্ত ও লিটনের পরামর্শে রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘রিভিউ আমরা আলোচনা করে নিয়েছিলাম। লিটন ছিল, শান্ত ছিল। ওরা দুজন বলছিল যে, রিভিউ আছে, আমরা রিভিউ নিয়ে নেই। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের দুটি রিভিউ আছে এবং ওটা একটা পরিকল্পনা ছিল আমাদের।’
শান্ত অবশ্য আরেকটু ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। টি-স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে বাঁহাতি ব্যাটার জানান, উইকেটকিপার লিটনই সবার আগে মিরাজকে রিভিউয়ের পরামর্শটা দিয়েছিলেন। শান্ত মনে করেন, ম্যাচ অ্যাওয়ারনেস কাজে লাগিয়ে ওই রিভিউটা নেওয়ায় বাংলাদেশের কাজটা আরেকটু সহজ হয়েছে।
শান্ত বলেন, ‘লিটন প্রথমে মিরাজকে এই আইডিয়াটা দিয়েছে যে, আমরা রিভিউ নিতে পারি। কারণ, ব্যাটে বল লেগেছিল, আমরা বুঝতে পারছিলাম। ওই সুযোগটা আমরা নিয়েছি। অনেক বড় একটা সময় ছিল। ওই সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। দারুণ ম্যাচ অ্যাওয়ারনেস এবং ওই বলটা রিভিউ নেওয়ার কারণে আমার মনে হয় আরেকটু সহজ হয়েছে।’
এদিকে বাংলাদেশের ওমন রিভিউ নিয়ে ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে পাকিস্তান। সফরকারীরা অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে রিপ্লে দেখার পর রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, রিপ্লে দেখে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রিপ্লে দেখলে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ থাকে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ১৫ সেকেন্ডের বেশি সময় ব্যবহার করে রিভিউ নিয়েছে। সম্প্রচারকরা টাইমার না দেখানোয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বাংলাদেশ ঠিক কত সেকেন্ড সময় নিয়েছে। ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ মাইক হেসনকে নিয়ামুরের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায় পাকিস্তান। যদিও সেই অভিযোগ থেকে পাকিস্তান কী ফল প্রত্যাশা করছে সেটা নিশ্চত নয়।