পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে হারতে আসেনি, ওরা শক্তিশালী হয়েই ফিরবে: সিমন্স

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
গণমাধ্যমে কথা বলছেন ফিল সিমন্স, ক্রিকফ্রেঞ্জি
গণমাধ্যমে কথা বলছেন ফিল সিমন্স, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
এগারো পর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান। ২০১৫ সালে, সবশেষ সিরিজে ৩-০ তে তাদের হোয়াইটওয়াশ করেছিলো টাইগাররা। লম্বা সময় পর আগের বাস্তবতা বদলেছে। এবারেও বাংলাদেশের লক্ষ্য একই থাকলেও প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানেন এবার আর কাজটা সহজ হবে না। আগের সিরিজের হোয়াইটওয়াশের ক্ষত ভুলতে এবার আরো শক্তিশালী হয়েই ফিরবে পাকিস্তান, এমনটাই বিশ্বাস সিমন্সের। পাকিস্তান সিরিজের চ্যালেঞ্জকে জয় করে পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও শুরু করতে চান এই ক্যারিবিয়ান।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানকে হারাতে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিলো বাংলাদেশকে। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে সেই সিরিজে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান মাশরাফি বিন মুর্তজা-তামিম ইকবালরা। এরপর বহুজাতীয় আসরগুলোতে দুই দল মুখোমুখি হলেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর খেলা হয়নি। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের স্বর্ণালি সময়ে পাকিস্তানকে তুলোধুনো করলেও এবার আর কাজটা সহজ হবার কথা নয় মেহেদী হাসান মিরাজের দলের। কারণ, ওয়ানডেতে বেশ বাজে সময় পার করছে বাংলাদেশ। সেই সাথে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার চাপ তো আছেই। তাই শিষ্যদের আগেই সতর্ক করে দিচ্ছেন সিমন্স।

সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, 'এটা একটা দারুণ সুযোগ। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পাকিস্তান এবার আর ৩-০ ব্যবধানে হারতে আসেনি। তারা এই সিরিজে অনেক শক্তিশালী হয়ে ফিরবে এবং আমাদের কঠিন লড়াই দেবে। তাছাড়া এই সিরিজের উইকেটও অনেক ভালো হবে। আমরা এই সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি এবং আপনার কথা মতো, সাউথ আফ্রিকা ২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্য নিয়ে এটাই আমাদের যাত্রার শুরু।'

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর কিছুটা অনভিজ্ঞ দল নিয়েই বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান। দলে নেই বাবর আজম-শাদাব খানদের মতো বড় নাম। স্কোয়াডের ছয় ক্রিকেটারের এখনো ওয়ানডে অভিষেক হয়নি। যদিও আব্দুল সামাদ, মাআজ সাদাকাত, মুহাম্মদ গাজি ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান ও শামিল হুসাইনরা ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন হলেও অন্যান্য ফরম্যাট ও ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত নাম।

তাই পাকিস্তান দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও নিজেদের নির্ভার থাকার সুযোগ দেখছেন না সিমন্স, 'পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে আসা কাউকেই আপনি খাটো করে দেখতে পারেন না কারণ সেখান থেকে সবসময় প্রতিভাবান ক্রিকেটার বেরিয়ে আসে। 'আনক্যাপড' মানে কিছু নয়; স্কোয়াডের অংশ হওয়ার মতো যথেষ্ট ক্রিকেট তারা খেলেছে।'

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বাজেভাবে বিদায়ের পর বাংলাদেশ টানা দুই সিরিজ হেরেছে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে কিছুটা ছন্দে ফেরার আভাস দিলেও ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা এখনো অনিশ্চিত। নিজেদের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে তাই সবশেষ দুই সিরিজের ধারা বজায় রাখতে চান সিমন্স।

সিমন্স বলেন, 'আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা খুব ভালোভাবে শেষ করেছিলাম এবং আমরা সেখান থেকে আর পিছিয়ে যেতে চাই না। একটা বিষয় মনে রাখবেন, এবারের উইকেটগুলো সেই সিরিজের তুলনায় অনেক বেশি ভালো মনে হচ্ছে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নতি করা এবং পরের ধাপে যাওয়া। গত ম্যাচে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, সেই ধারা বজায় রাখা এবং কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় কাজ করা প্রয়োজন। আমি মনে করি, আমরা বিশেষ করে মিডল ওভারে (মাঝের ওভারগুলোতে) আরও ভালো করতে পারি, কারণ সেখানে আমরা খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলাম না। আর আমাদের বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও মাঝের ওভারগুলোতে আরও বেশি উইকেট নিতে হবে। মূলত এই দুই জায়গাতেই আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দেব।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত না হলেও স্বাগতিক সাউথ আফ্রিকার কন্ডিশনকে মাথায় রেখেই নিজের দলকে প্রস্তুত করবেন বলেও জানান তিনি। সিমন্স বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা এখন থেকে চেষ্টা করব অন্তত তিনজন ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলার। কারণ আপনি ঠিকই বলেছেন, বিশ্বকাপ সাউথ আফ্রিকায় এবং সেখানে আমাদের পেসারদের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের ৩ জন স্পিনার খেলাতে হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতি এমন হবে না যে একজন স্পিনার মাত্র ২ ওভার বোলিং করবে। আপনি যেখানে খেলতে যাচ্ছেন, সেখানকার জন্য আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই তিন জন পেসার খেলানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে।'

আরো পড়ুন: