বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট: সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড ও ক্রিকেটাররা, দাবি আসিফ নজরুলের

বাংলাদেশ ক্রিকেট
সংগৃহিত
সংগৃহিত
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনার পরও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে একটুও সরে আসেনি বাংলাদেশ। নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে আসিফ নজরুল নিশ্চিত করেছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ সরকারই লিটন দাসদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। তবে প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যুতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জানালেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটাররা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিস্তারিত না জেনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সিলেটে এমন কথা জানানোর পরই ভার্চুয়াল বোর্ড সভার আয়োজন করে বিসিবি। বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে হওয়া সেই আলোচনায় আইসিসির কাছে নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাওয়ার কথা ছিল দেশের ক্রিকেটর নিয়ন্ত্রক সংস্থার। ক্রিকেটাররা যখন সিলেটে বিপিএল খেলায় ব্যস্ত তখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারত থেকে ভেন্যু সরানোর পরামর্শ দিয়ে আইসিসিকে চিঠি লেখার পরামর্শ দেন আসিফ নজরুল।

বোর্ড পরিচালকরা শুরুতে নমনীয়ভাবে চিঠি দেওয়ার কথা থাকলেও সরকারের সিদ্ধান্তের পর বিসিবির অবস্থান বদলে যায়। আইসিসিকে দেওয়া চিঠিতে লেখা হয়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যাতে ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। বিসিবি সভাপতি বুলবুলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন আসিফ নজরুল। সেই বৈঠকেও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার অবস্থান ছিল একই।

পরবর্তীতে দুই দফা চিঠি চালাচালি ও সভার পরও আইসিসির সঙ্গে সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং আইসিসির সদস্য দেশগুলোর বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে হেরে যায় বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। এমন সময় সিদ্ধান্ত নিতে জাতীয় দলের পাশাপাশি জাতীয় দলের আশেপাশে আছেন এমন প্রায় ৩০ ক্রিকেটারকে ডেকে পাঠান আসিফ নজরুল।

রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি বাংলাদেশ। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে সেটার বিস্তারিত জানাননি তিনি। তবে ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল এটা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত।’

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তকে সরকারের বললেও প্রায় তিন সপ্তাহ পর জানালেন ভিন্ন কথা। ১০ ফেব্রুয়ারি শারিরীক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নের জন্য ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়কে ২ কোটি টাকা দিয়েছে বিসিবি। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসিফ নজরুল। সেই সময় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকা নিয়ে কথা বলতে রাজি ছিলেন না তিনি। তবে সবার অনুরোধে কয়েক মিনিট কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলেই জানান তিনি। এ ছাড়া বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ও বোর্ড নিয়েছে এমন কথাও জানিয়েছেন তিনি নিজেই। আসিফ নজরুল মনে করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটার, মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে বিসিবি ও ক্রিকেটাররা যে ভূমিকা রেখেছে সেটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা, প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়েরা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে দেশের ক্রিকেটের, ক্রিকেটারদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তারজন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে...। আমার মনে হয় যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ায় বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে আইসিসি। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করতে পারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এমন আশঙ্কা থাকলেও এসব কিছুই হচ্ছে না। আইসিসি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না এবং জরিমানাও করা হবে না। এ ছাড়া ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেছে আইসিসি। এমন কিছুকে দারুণ অর্জন হিসেবে দেখছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘তারা (বিসিবি) যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসিটা করেছে... আইসিসি বলতেছে তারা আমাদের কোনো শাস্তি দেবে না বরং একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক আমাদের করবে। এটা দারুণ একটা অর্জন। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে স্যালুট জানাই। এরকম সিদ্ধান্ত ১০বার নেওয়ার সুযোগ আসলে ১০বারই নেওয়া উচিত।’

আরো পড়ুন: