এশিয়ান গেমসের দলে আলিস
এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন। এ কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাকে ছিটকে যেতে হয়েছে।
এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন। এ কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাকে ছিটকে যেতে হয়েছে।
টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় ফিফটিতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ম্যাচেও দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন শাহাদাত হোসেন দিপু। দিপুর ৭১ রানের সাথে আরেক ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম ৭৮ রান করেন। এরপর মিডল অর্ডারে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ফিফটির সাথে আকবর আলী, আবু হায়দার রনির ঝড়ো ইনিংসে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বোলিংয়ে নেমে হ্যাট্রিকসহ ক্যারিয়ার সেরা ছয় উইকেট শিকারে গাজী গ্রুপকে ১০৫ রানেই গুড়িয়ে দেন আলিস আল ইসলাম। ১৯৮ রানের ব্যবধানে টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থ জয় তুলে নেয় প্রাইম ব্যাংক।
শাহাদাত হোসেন দীপুর ঝড়ো ফিফটিতে টানা দ্বিতীয় জয়ের ভিত পেয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। মিডল অর্ডারে শামীম হোসেন পাটোয়ারী কার্যকরী ইনিংস খেললে ৩৬ ওভারের ম্যাচে ২০০ রানের সংগ্রহ পায় তারা। জবাবে মাইনুল ইসলাম তন্ময়ের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ভালো সূচনা পায় গুলশানও। কিন্তু বল হাতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের স্পিন জাঁদুতে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেন আলিস আল ইসলাম। এই রহস্য স্পিনারের তিন উইকেট শিকারে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ৩২ রানে হারায় প্রাইম ব্যাংক।
তৌফিক খান তুষারের পর মার্শাল আইয়ুব, শুভাগত হোম ও তোফায়েল আহমেদকে ফেরালেন আলিস আল ইসলাম। ৬ ওভারে ২২ রান খরচায় রহস্যময় স্পিনারের শিকার ৪ উইকেট। আলিসের এমন বোলিংয়ে ১৫৩ রানে গুঁটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। রান তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিম, আরিফুল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির ব্যাটে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুশফিক হাসানের শেষ বলে চার মেরে চিটাগং কিংসকে ফাইনালে তুলেছিলেন আলিস আল ইসলাম। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে চোটে পড়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন রহস্যময় এই স্পিনার। এভাবে হাঁটতে দেখেই ধারণা করা হচ্ছিল ফাইনালে হয়ত পাওয়া যাবে না তাকে। শেষ পর্যন্ত চোটে পড়া আলিসকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে চিটাগংকে। ফাইনালে ফরচুন বরিশালের কাছে হেরে আলিসকে না পাওয়ার আক্ষেপ করলেন মোহাম্মদ মিঠুন ও খালেদ আহমেদ।
হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন যখন ফিরলেন চিটাগং কিংসের তখনও ১৮ বলে প্রয়োজন ৩৪ রান। অধিনায়ক ফিরতেই শেষ হয়ে যায় বিশেষজ্ঞ ব্যাটারের কোটা। এমন অবস্থায় আরাফাত সানি কিংবা আলিস আল ইসলামরা চিটাগংকে ফাইনালে তুলবেন সেটা হয়ত বেশিরভাগ মানুষই ভাবেনই। অথচ সেই অবিশ্বাস্য সমীকরণই মিলিয়েছেন তারা দুজন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজের অভিষেক মৌসুমেই বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলেন আলিস আল ইসলাম। বছর কয়েক পর আবারও ডানহাতি রহস্যময় স্পিনারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আম্পায়াররা। ২৫ জানুয়ারি বিসিবির একাডেমিতে প্রাথমিক পরীক্ষা দেবেন আলিস।
চোটের কারণে লম্বা সময় ধরেই ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন আলিস আল ইসলাম। এই চোটের কারণে জাতীয় দলের অভিষেকের দুয়ার থেকেও ফিরতে হয়েছে এই স্পিনারকে। বিপিএলের গত আসরে পারফর্ম করে শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন আলিস। কিন্তু আঙুলের চোটের কারণে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় তার।
ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন ও আজিজুল হাকিম তামিমকে ফিরিয়ে নিজের কাজটা করে দিয়েছেন আলিস আল ইসলাম। ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় ঢাকা মেট্রোর ‘রহস্যময়’ স্পিনার নিয়েছেন ৩ উইকেট। বোলিংয়ে বাকি কাজটা সেরেছেন রাকিবুল হাসান, মারুফ মৃধারা। খুলনার এনামুল হক বিজয়, নুরুল হাসানদের সোহানদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৬ রানের জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা মেট্রো। জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টির তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে সবার উপরে নাইম শেখরা।