৩০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের থ্রো থেকে রান আউট হন গাজী গ্রুপের নাইম আহমেদ। দলীয় ২৬ রানে প্রিতম কুমারকে ফিরিয়ে নিজের উইকেট উৎসবের সূচনা করে আলিস। পাঁচ রান করা প্রিতমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। এরপর দ্রুত সময়ের মাঝে দুটি উইকেট তুলে নেন আজিজুল হাকিম তামিম।
৪২ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গাজী। সেখান থেকে অধিনায়ক সালমান হোসেন ইমন ও সাব্বির হোসেন কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। কিন্তু ২৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে গাজী গ্রুপের ইনিংস ধসিয়ে দেন আলিস। ওভারের পঞ্চম বলে ২০ রান করা ইমনকে বোল্ড করেন আলিস। পরের বলেই মাহফুজুল ইসলামকে গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন এই রহস্য স্পিনার।
২৪ তম ওভারের প্রথম বলে নিজের হ্যাট্রিক পূর্ণ করেন এই স্পিনার। এবার আরিদুল ইসলাম আকাশকে শূন্য রানে বোল্ড করেন আলিস। তার হ্যাটট্রিকের তিনটি আউটই ছিল বোল্ড। এরপরই মোহাম্মদ রুবেলকে তামিমের ক্যাচে পরিণত করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। একপ্রান্তে গাজী গ্রুপের হাল ধরে রাখা সাব্বিরকে ৩৮ রানে লেগ বিফোর করে ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন আলিস। ১০৫ রানেই অলআউট হয় গাজী গ্রুপ।
এর আগে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) মাঠে টস জিতে প্রাইম ব্যাংককে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪৬ রান তুলে প্রাইম ব্যাংককে দারুণ সূচনা এনে দেন দারুণ ফর্মে থাকা দিপু ও তামিম। আসরের চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন দিপু। ৩২ তম ওভারে মাহফুজের বলে লেগ বিফোর হবার আগে ৮৮ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে ৭১ রান করেন দিপু।
অন্যপ্রান্তে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন তামিম। দলীয় ১৫৫ রানে মাহফুজের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ অঞ্চলে লিয়ন ইসলামের তালুবন্দি হন তামিম। ১০৭ বলে সমান তিন ছক্কা ও চারে ৭৮ রান করেন তিনি। মাঝে তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলাম ফিরে যান ১৫ রান করে। মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তুলতে থাকেন শামীম ও অধিনায়ক আকবর আলী।
২০০ স্ট্রাইক রেটে ১৩ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে ২৬ রান করে মাহফুজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন আকবর। অন্যদিকে ৪৫ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে ৫১ রানে অপরাজিত ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৩০০ পার করেন শামীম। শামীমকে যোগ্য সঙ্গ দেন রনি। ১৭ বলে পাঁচ ছক্কায় ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেটে ৩০৩ রানে শেষ হয় প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস। গাজী গ্রুপের হয়ে মাহফুজ চারটি এবং লিয়ন ও রহিম আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।
সৈকত আলীর ৮৮ রানের ইনিংসে ঢাকা লেপার্ডসের সহজ জয়
বিকেএসপির তিন নম্বরে মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল গুলশাল ক্রিকেট ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস। গুলশানের ১৭৮ রানের জবাব দিতে নেমে পাঁচ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে লেপার্ডস। তৃতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান সৈকত আলী ও ইফতেখার ইফতি। ৬৬ বলে ৪৬ রান করে বাঁহাতি স্পিনার তানভীরের বলে বোল্ড হন ইফতি। তবে অন্যপ্রান্তে ৯০ বলে ৮৮ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন সৈকত। ৯২ বল হাতে রেখে ছয় উইকেটের জয় পায় লেপার্ডস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় গুলশান। গুলশানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ওপেনার আলিফ ইমন। এছাড়া সাত নম্বরে নামা মুসাব্বির হোসেন মুনের ২৯ ও নয় নম্বরে নামা আব্দুর রহিমের ৩৪ রান ছাড়া তেমন কেউই লড়াই করতে পারেননি। লেপার্ডের হয়ে আরাফাত সানি, মইন খান ও হাসান মুরাদ দুইটি করে এবং আলাউদ্দিন বাবু, আল ফাহাদ, শেখ পারভেজ জীবন একটি করে উইকেট নেন।