হারের পরও স্বল্প পুঁজিতে বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি। ১১৪ রানকে বড় সংগ্রহে পরিণত করার জন্য শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন মারুফা আক্তাররা। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন মারুফা, এরপর ইমেশা দুলানিকেও ফেরান তিনি। সুলতানা খাতুন ও রিতু মণিও উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আক্ষেপটা তাই ১৮তম ওভারের একটি ক্যাচ ঘিরে। ম্যাচ শেষে সোবহানা বলেন, ১৮ নম্বর ওভার পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের হাতেই ছিল। ওই ওভারে ডিপ মিডউইকেটে একটা ক্যাচও মিস করেছি। যদি ক্যাচটা ধরতে পারতাম, হয়তো আমরা ম্যাচটা জিতে যেতাম।'
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর পরও শেষটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ১০ বলে ১৪ এবং দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২৬ রান করে শুরুটা এগিয়ে নেন। তবে মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কমে যায়। সোবহানা নিজে ৪১ বলে ৩৪ রান করে দলকে টেনে রাখেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার।
১৪০-এর বেশি রান করার লক্ষ্য থাকলেও সেটি আর সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সোবহানা। নিজের ও স্বর্ণা আক্তারের স্ট্রাইক রোটেট করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সোবহানা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৪০-এর বেশি রান করা। দুর্ভাগ্যবশত মাঝের দিকে রান নেওয়ার গতি ধীর হয়ে গিয়েছিল। আমি এবং স্বর্ণা স্ট্রাইক রোটেট করছিলাম, কিন্তু শেষ ৩-৪ ওভার আমরা কাজে লাগাতে পারিনি'
বাংলাদেশের ১১৪ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা একসময় ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসেছিল। সেখান থেকে হার্শিতা ও শেষ দিকে কৌশিনী নুথিয়াঙ্গানার ব্যাটে ম্যাচ ঘুরে যায়। হার্শিতা ৩৭ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন, আর শ্রীলঙ্কা ১৯.২ ওভারে ১১৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে তারা সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
এখন বাংলাদেশের সামনে শেষ সুযোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। মঙ্গলবারের (৮ সেপ্টেম্বর) ম্যাচটি জিততেই হবে জ্যোতিদের। আরব আমিরাতও নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ম্যাচ তাই দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সোবহানার ভাষায়, 'সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো দল। এখন আমাদের নজর এই ম্যাচের দিকে। আমাদের এই ম্যাচটি জিততেই হবে। তাহলেই আমরা হয়তো সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারব।'