এশিয়া কাপ সামনে রেখে সোমবার মিরপুরে ফটোসেশন করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগামী বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাদের। ফটোসেশন শেষে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু।
ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। নিয়মিত ঘরোয়া সূচির বাইরে সেরা ৪৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনটি দল গঠন করে চ্যালেঞ্জ কাপ আয়োজনের কথা জানিয়েছেন রফিকুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে যে খেলাগুলো আছে, সেগুলো তো থাকবেই। এর বাইরে সেরা ৪৫ জনকে নিয়ে তিনটি দল করব। ওই তিন দলের মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জ কাপ হবে। এর ফলে অনেক ক্রিকেটার, যারা ভালো খেলার সুযোগ পায় না, তারা নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পাবে। আমরা চাই ঘরোয়া লিগ বা এ ধরনের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আরও বেশি ক্রিকেট হোক।’
এই আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় দলের জন্য বড় একটি পাইপলাইন তৈরি করতে চান তারা। রফিকুল বলেন, ‘তারা যত বেশি খেলবে, তত বেশি অভিজ্ঞ হবে। জাতীয় দলে আসার জন্য অনেক খেলোয়াড় তৈরি হবে। পাইপলাইনে অনেক খেলোয়াড় থাকবে—এই লক্ষ্যেই আমরা এটা করছি।’
দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট নিয়েও পরিকল্পনা করছে বিসিবি। সরাসরি টেস্ট ক্রিকেটে যাওয়ার আগে তিন বা চার দিনের ম্যাচ খেলার অভ্যাস তৈরি করতে চান তারা। রফিকুল বলেন, ‘আমরা ভাবছি কীভাবে মেয়েদের লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটে আরও অভিজ্ঞ করা যায়। ক্যালেন্ডার দেখে বের করব, কখন লঙ্গার ভার্সনের ক্রিকেট খেলা যায়। তিন বা চার দিনের ম্যাচ খেলতে পারলে তাদের সেই অভিজ্ঞতা অবশ্যই দরকার।’
টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে থেকে টেস্ট ম্যাচ একেবারেই আলাদা। টেস্টে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য প্রচুর খেলতে হবে। লঙ্গার ভার্সনে খেলিয়ে তাদের অভ্যস্ত করতে চাই, যাতে চার-পাঁচ দিনের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নিয়েই তারা টেস্টে নামতে পারে।’
নারী বিপিএল আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিসিবির এই কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের। রফিকুল বলেন, ‘বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল আছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে নারী বিপিএল হবে কি না। তারা যদি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের মেয়েরা প্রস্তুত আছে। ইনশাআল্লাহ খেলবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মেয়েদের ব্যবধানও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে অল্পের জন্য হারার উদাহরণ টেনে রফিকুল বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে বড় দলগুলোর সঙ্গে আমাদের সামান্য গ্যাপ আছে। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের সঙ্গে মেয়েরা খুব সুন্দর খেলেছে, সামান্য ভুলের জন্য হেরেছি। ওই জায়গাগুলো শুধরানোর জন্য তামিম অনেক সিরিয়াসলি চেষ্টা করছে এবং আরও কী করলে ভালো হয়, সেটা নিয়ে আলোচনা করছে।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো শীর্ষ দলকে হারানোর ক্ষেত্রে এখনো কিছুটা পথ বাকি থাকলেও অন্য দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের সামর্থ্য নিয়ে আশাবাদী রফিকুল। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এখনো অনেক ওপরে। তবে অন্য দেশগুলোকে হারানোর সক্ষমতা আমাদের মেয়েদের আছে। আমাদের এই সামান্য গ্যাপটা পূরণ করতে পারলে আমরা যেকোনো দেশকে হারানোর সক্ষমতা রাখব।’