রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৯০ বলে অপরাজিত ১০৭ রান করেন সালমান আঘা। তার সেঞ্চুরিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে শুরু হওয়া ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জয় পায় পাকিস্তান। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর নিজের ফর্মে ফেরার পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের অবদানের কথা তুলে ধরেন ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
আইসিসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালমান আঘা বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। তার ভাষায়, 'আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিই না। অনেকে মনে করেন, সেখানে রান করা খুব সহজ, যেন চাইলেই রান করা যায়। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। তা যদি হতো, তাহলে সবাই গিয়ে রান করত। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করতেও ভালো খেলতে হয়, লড়াই করতে হয়।'
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলেও অনেক সময় ক্রিকেটারদের সেই পারফরম্যান্সকে খাটো করে দেখা হয় বলে আক্ষেপ করেন তিনি। সালমান আঘার মতে, দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ক্রিকেটারদের প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। সৌদ শাকিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'ঘরোয়া ক্রিকেটের পথ পেরিয়েই অনেক ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করছেন। তাদের পারফরম্যান্সকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।'
সালমান আঘা আরও জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে ঘরোয়া পর্যায়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তখন ব্যাটিংয়ের অ্যালাইনমেন্ট ও টেকনিকেও কিছু সমস্যা ছিল। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেসব জায়গায় উন্নতি করেন তিনি। সালমান বলেন, 'আমি সেখানে ফিরে খেলেছি, রান করেছি এবং নিজের খেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি এনেছি। আল্লাহর রহমতে, সেই সাফল্য এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কাজে লেগেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার সময় এসেছে।'
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খারাপ সময় কাটিয়ে ফর্মে ফেরাটা সহজ নয় বলেও স্বীকার করেছেন পাকিস্তানের এই ব্যাটার। তার মতে, তিন-চারটি টেস্ট ম্যাচ ভালো না গেলেও তার আগের চার বছর ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপ ও ঝুঁকি বেশি থাকায় ছন্দ হারালে তা ফিরে পেতে সময় লাগে। তিনি বলেন, 'ফর্ম পড়ে যাওয়া এবং আবার ফিরে আসতে সময় লাগে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।'
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফেরার পর এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই সালমানের লক্ষ্য। ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচ মঙ্গলবার, একই ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।