পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য আবার সর্বোচ্চ। ম্যাচে দুই দল মিলে রান করেছে ৫০১, যা পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ভারতের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে সাঞ্জু স্যামসন খেলেন ৮২ রানের ইনিংস। শেষ দিকে শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৮০ রান। কিন্তু শিশিরভেজা মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছক্কার বৃষ্টির সামনে তা যথেষ্ট হয়নি।
বোলিংয়ে ভারতের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ওভারে মায়াঙ্ক যাদবের বলে নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমায়ার আউট হলে ৫ রানে ২ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন হোপ ও রাদারফোর্ড। অক্ষর প্যাটেলের এক ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন হোপ। রোভম্যান পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও রাদারফোর্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লেতেই ৭২ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এরপর হোপ ও রাদারফোর্ডের ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রাদারফোর্ড, হোপও ফিফটি পান একই গতিতে। রাদারফোর্ডকে ৮৪ রানে ফিরিয়ে ভারত কিছুটা আশা দেখলেও তখন জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান। রোমারিও শেফার্ড ক্রিজে এসে সেই আশাও শেষ করে দেন। কুলদীপ যাদবের ১৭তম ওভারে ২৪ রান এবং অর্শদীপ সিংয়ের পরের ওভারে ১৭ রান তুলে ম্যাচ ভারতের নাগালের বাইরে নিয়ে যান তারা।
শেষ পর্যন্ত অক্ষরের ওভারে পরপর দুটি ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন হোপ। দ্বিতীয় ছক্কাটির সঙ্গেই পূর্ণ হয় তাঁর সেঞ্চুরি, নিশ্চিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ও। পুরো ইনিংসে ২০টি ছক্কা মারে সফরকারীরা, ভারতের ছক্কা ছিল ১৩টি। শিশিরের কারণে স্পিনারদের বল নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে; অক্ষর ৩.৩ ওভারে ৬৩ এবং কুলদীপ চার ওভারে ৫৩ রান দেন। বড় সংগ্রহ গড়েও তাই জয়ের দেখা পেল না ভারত, আর সিরিজে ফিরে এল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত শুরুতে কাজে লাগাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্যামসন শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও ফিল্ডিংয়ে পাওয়া দুই জীবন কাজে লাগিয়ে দ্রুত ছন্দে ফেরেন। ২১ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটারদের যৌথ দ্রুততম ফিফটি। ঘরের মাঠে ইশান কিশানের ২২ বলে ৪৩ রানের ইনিংসও ভারতকে এগিয়ে দেয়। দুজনের ৪৩ বলে ৯৭ রানের জুটিতে ১০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় এক উইকেটে ১২৭।
তবে মাঝের ওভারে রস্টন চেজের স্পিনে কিছুটা থমকে যায় ভারতের ইনিংস। ২৪ রানে তিন উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয়দের সফলতম বোলার ছিলেন তিনি। চেজের ঘূর্ণিতে ইশান ও শিভম দুবে ফেরার পর স্যামসনও ৮২ রানে আউট হন। শেষ দিকে আইয়ারের ১৮ বলে ৪০ ও তিলকের ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রানে পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। শেষ ওভারে টানা তিন বলে ছক্কা হাঁকান তিলক।