পাকিস্তানের পেস বোলিংয়ের দুর্বলতা নিয়েও যখন প্রশ্ন উঠছে, তখনই আলোচনায় এসেছে আফ্রিদির প্রসঙ্গ। একসময় পাকিস্তানের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু চোটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ছন্দ হারানো আফ্রিদিকে এখন টেস্ট দলেও দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন রমিজ।
সম্প্রতি মাইকেল ভন, স্যার অ্যালিস্টার কুক, ডেভিড ‘বাম্বল’ লয়েড ও ফিল টাফনেলের সঙ্গে একটি পডকাস্টে অংশ নিয়েছিলেন রমিজ। সেখানেই তাঁকে আফ্রিদির টেস্ট দলে না থাকা এবং তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
রমিজ বলেন, ওর সঙ্গে কী হয়েছে, আমি জানি না। অবশ্যই হাঁটুর চোটের পর সে এখনো শতভাগ ফিট নয়। তবে মানুষ বলে, তার আচরণ নিয়েও সমস্যা আছে। আমি জানি না; আমি তাকে এতটা ভালোভাবে চিনি না।’
অবশ্য আফ্রিদির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাননি রমিজ। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, আফ্রিদিকে ব্যক্তিগতভাবে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠভাবে না জানায় তাঁর মানসিকতা নিয়ে নিশ্চিতভাবে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে দলের ভেতরে আফ্রিদিকে নিয়ে এক ধরনের ধারণা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
রমিজ বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে একটা সাধারণ ধারণা আছে যে, সে সব সময় পুরোপুরি সেখানে থাকে না। তার মুডের ওঠানামা, তাকে ঠিকভাবে সামলানো না হওয়া এবং প্রশাসনিক কিছু ভুলও মাঠে তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।’
আফ্রিদিকে ঘিরে আলোচনার পাশাপাশি পাকিস্তানের সামগ্রিক পেস বোলিং নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন রমিজ। একসময় ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতারদের উত্তরসূরি হিসেবে যে পেস-ঐতিহ্য নিয়ে পাকিস্তান গর্ব করত, সেটি এখন আগের মতো ধারালো নয়। চলতি টেস্ট সিরিজে পেসারদের ব্যর্থতার বিপরীতে বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমানের পাঁচ উইকেট পাওয়াও সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।
শুধু আফ্রিদি নন, পাকিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েও রমিজের উদ্বেগ আছে। তাঁর মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে শুরুতেই শুধু সাদা বলের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
পাকিস্তানের পাইপলাইন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রমিজ বলেন, ‘পিএসএলের পরিসরে দু-তিনজন ক্রিকেটারকে সাদা বলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এভাবে চলবে না।’
তাঁর মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে টেস্ট খেলা একজন ক্রিকেটারের সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণের বড় সুযোগ। এমন সিরিজে ভালো করতে পারলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের পরিচিতিও তৈরি করা যায় বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রমিজ বলেন, ‘আপনি যদি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চান এবং ইংল্যান্ডে বা অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান, তাহলে এভাবে চলবে না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেললে পুরো বিশ্বের চোখ আপনার ওপর থাকে। নিজের নাম তৈরি করার জন্য এটি দারুণ একটি সময়।’