হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলা টার্নারের চুক্তির এখনও দুই বছর বাকি ছিল। গত বছরের শেষ পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ডেভেলপমেন্ট চুক্তির আওতায়ও ছিলেন। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। চার আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিয়েছিলেন তিনটি উইকেট। তবে গত বছরের জুনে পিঠে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার হওয়ার পর আর মাঠে নামা হয়নি তার।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে টার্নার বলেন, ‘পেশাদার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়াই ছিল আমার ছোটবেলার স্বপ্ন। হ্যাম্পশায়ার ও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারাটা সেই স্বপ্ন পূরণের মতোই ছিল। তবে আমি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্বাস করুন, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। এক বছরের বেশি সময় ধরে আমাকে মাঠের বাইরে রাখা স্ট্রেস ফ্র্যাকচার এবং বারবার চোট পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে ক্রিকেটের পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে বাধ্য করেছে। তাই জীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করার এটাই সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে।’
হ্যাম্পশায়ারের হয়ে পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারকে নিজের জীবনের সেরা সময় বলেও উল্লেখ করেছেন টার্নার। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন নিয়ে যেদিন ক্লাবে যোগ দিয়েছিলাম, সেদিন থেকেই সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। ক্লাব আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার জন্য আমি কখনোই যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারব না। গত কয়েক বছরে এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। ক্লাবের সবাই পাশে না থাকলে এগুলোর কোনোটাই সম্ভব হতো না।’
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্ম নেওয়া টার্নার হিলটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন। পরে ইংরেজ মায়ের সূত্রে পাওয়া ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটর থেকে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে স্নাতক শেষ করে ২০২১ সালে সফল ট্রায়ালের মাধ্যমে হ্যাম্পশায়ারে যোগ দেন। দ্য হান্ড্রেডে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর ২০২৩ সালে প্রথমবার ইংল্যান্ড দলে ডাক পান।
তবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত সুযোগ পাননি তিনি। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলেছেন মাত্র সাতটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে ধারে খেললেও ফের চোটে পড়েন। সেই চোটই শেষ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিল।
হ্যাম্পশায়ারের ক্রিকেট পরিচালক গাইলস হোয়াইট বলেন, ‘জন অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটার। তার পেশাদার ক্যারিয়ারের এমন সমাপ্তিতে আমরা সবাই দুঃখিত। গত পাঁচ বছরে হ্যাম্পশায়ারের সফল সময়ে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাব ও ইংল্যান্ডের জন্য সে সবসময় শতভাগ উজাড় করে দিয়েছে। তার অবসরে আমরা হতাশ, তবে জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য তাকে শুভকামনা জানাই। ভবিষ্যতে তাকে আবারও আমাদের মাঝে দেখতে চাই।’