সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি এসেছে বহুদিনের লাল বলের ক্রিকেটে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিনের শেষ ওভার চলাকালে কোনো উইকেট পড়লেও ওভারটি মাঝপথে শেষ করা যাবে না। পুরো ওভার শেষ করেই দিনের খেলা শেষ করতে হবে।
এমসিসির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘পাঁচ দিনের ম্যাচে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এর ফলে দিনের একেবারে শেষ দিকে নতুন ব্যাটারকে নামানোর বিষয়টি এড়াতে ব্যাটিং করা দল আর ইচ্ছাকৃতভাবে খেলা শেষ করতে পারবে না।’
যদিও বিসিসিআই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি, তবে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো ‘২০২৬-২৭ মৌসুমের প্লেয়িং কন্ডিশনের পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ’-এ এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘২০১৭ সালের আইনবিধির চতুর্থ সংস্করণ (২০২৬ সংস্করণ) অনুযায়ী প্রযোজ্য পরিবর্তন, লিঙ্গভিত্তিক ভাষার সংশোধন এবং বিসিসির আলোচনায় গৃহীত অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবারের প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত করা হচ্ছে।’
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ইচ্ছাকৃত ফ্রন্ট-ফুট নো বল ও ইচ্ছাকৃতভাবে বল পিচে না ফেলেই ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে। আগে এমন অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট বোলার শুধু ওই ইনিংসে আর বল করতে পারতেন না। নতুন নিয়মে পুরো ম্যাচ থেকেই তাঁর বোলিং নিষিদ্ধ হবে।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ‘ইচ্ছাকৃত ফ্রন্ট-ফুট নো বল করলে বোলার পুরো ম্যাচে আর বল করতে পারবেন না। ইচ্ছাকৃত ফ্রন্ট-ফুট নো বলের শাস্তি এখন শুধু একটি ইনিংস নয়, পুরো ম্যাচের জন্য প্রযোজ্য হবে।’
তবে কোনো নো বল ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, সেটি নির্ধারণ করবেন মাঠের আম্পায়ার। ফলে বিষয়টি অনেকটাই তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
আরেকটি নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ফিল্ডার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর আগেই আটকে দেন, তাহলে সেটি একই সঙ্গে ‘নো বল’ এবং ‘ডেড বল’ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ছাড়া ম্যাচের শেষ ইনিংসে ডিক্লেয়ার বা ইনিংস পরিত্যাগের সুযোগও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এমসিসি। এ বিষয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘এই নিয়ম মূলত কৃত্রিমভাবে ম্যাচের ফল বের করার জন্যই ব্যবহার করা হতো। তাই এটি ক্রিকেটের জন্য ভালো নয় বলে মনে করা হয়েছে।’