২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর মাত্র তিন মাস লম্বা হয়েছে ফখরের টেস্ট ক্যারিয়ার। যদিও অভিষেক টেস্টেই ৯৪ ও ৬৬ রানের দুটি ইনিংস আছে এই ব্যাটারের। টেস্ট ফরম্যাট খুব পছন্দ হলেও এখন আর এই ফরম্যাটে নিজের জায়গা দাবি করতে চান না ফখর। যদিও ৩৬ বছর বয়সী ওপেনারের দাবী, বয়স কোনো ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের প্রধান মানদণ্ড হতে পারে না। তাঁর মতে, ৩০ বছর পার হওয়ার পরই একজন ব্যাটার নিজের সেরাটা খেলতে শুরু করেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পডকাস্ট স্ট্রেইট ড্রাইভ এ সাবেক অধিনায়ক সালমান বাটের সঙ্গে আলাপচারিতায় ফখর বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা বয়স নিয়ে একটু বেশি চিন্তা করি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই ফিল্ডিংয়ের সময় নিজেকে আড়াল করি না। কোনো অধিনায়কও আমাকে লুকিয়ে রাখেন না। আমাকে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই ফিল্ডিং করতে পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বয়সের সঙ্গে বিষয়টির তেমন সম্পর্ক নেই। আসল বিষয় হলো আপনি নিজেকে কীভাবে তৈরি রাখছেন, কীভাবে অনুশীলন করছেন এবং নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন কি না।’
ফখরের মতে, যারা নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখেন, অনুশীলনের ধরন সময়ের সঙ্গে বদলান এবং নিজের খেলা আরও ভালোভাবে বুঝতে শেখেন, তারা ৩০ বছর বয়সের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও সফল হন।
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ব্যাটারদের ক্ষেত্রে আমি মনে করি, তারা যদি নিজের যত্ন নেয় এবং নিজেকে ঠিকভাবে গড়ে তোলে, তাহলে ৩০ বছরের পরই তাদের আসল সেরা সময় শুরু হয়। তখন আপনি ক্রিকেটকে আরও গভীরভাবে বুঝতে শেখেন এবং নিজেকে কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সেটাও ভালোভাবে জানেন।’
টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে ফখর বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি লাল বলের ক্রিকেট খুবই পছন্দ করি। যদি জিজ্ঞেস করেন, আমার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের কোন সংস্করণ, তাহলে সেটি অবশ্যই টেস্ট ক্রিকেট। যদিও আমার সবচেয়ে প্রিয় সংস্করণ ওয়ানডে, তবুও টেস্ট ক্রিকেট খেলতে এবং দেখতে আমি ভীষণ উপভোগ করি।’
তবে পাকিস্তানের টেস্ট দলে নিজের জায়গা দাবি করতে চান না ৩৫ বছর বয়সী এই ওপেনার। তাঁর বিশ্বাস, এই সংস্করণের জন্য আরও উপযুক্ত ক্রিকেটার রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তিনটি টেস্ট খেলেছি। পরে কোচরা আমাকে টেস্ট খেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমার চেয়ে ভালো লাল বলের ক্রিকেটার আছে। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ভালো করেছে এবং পাকিস্তান দলের জন্যও বেশি উপযুক্ত। তাই তাদেরই খেলা উচিত। আমি কেন তাদের জায়গা নেব?’
ফখর স্পষ্ট করে জানান, এটিকে তিনি কোনো ত্যাগ হিসেবে দেখেন না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, যে সংস্করণে তিনি দলের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারবেন, সেখানে খেলাই তাঁর দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, ওয়ানডে ক্রিকেট আমার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই সেখানে আমার থাকা উচিত। কিন্তু টেস্টে যদি আমার চেয়ে ভালো ক্রিকেটার থাকে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানের জন্য ভালো করতে পারবে, তাহলে তারাই খেলুক।’