ভারত-পাকিস্তানের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলাচ্ছে আইসিসি

আইসিসি
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রচারস্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চাঙা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার কথা মাথায় রেখেই আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে একই গ্রুপে রাখা হয় ভারত ও পাকিস্তানকে। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ হলেও নক আউটে তাদের দেখা হবে সেটার নিশ্চয়তা নেই। দুই দেশের আরও বেশি ম্যাচ দেখার জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলাচ্ছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

চলতি বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। একই গ্রুপে থাকায় কলম্বোতে হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ। প্রত্যাশিতভাবেই সূর্যকুমার যাদব, জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়াদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারেননি শাহীন আফ্রিদি-বাবর আজমরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে উঠতে পারেনি সুপার এইটেও।

এমন অবস্থায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের একবারই দেখা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সুপার এইটে উঠতে পারতো কিংবা সেখান থেকে সেরা চারে থাকতে পারতো তখন হয়ত আরও একবার দুই দলের দেখা হতো। ব্যবসায়িক দিক থেকে আইসিসি ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোও লাভবান হতো। পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে বিশ্বকাপের ফরম্যাটই পরিবর্তন করতে যাচ্ছে আইসিসি।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, চারটি গ্রুপ থেকে দুইটি করে দল পরের রাউন্ডে উঠে। যেখানে সুপার এইটে সেরা আটটি দল খেলার সুযোগ পায়। বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরও বেশি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখার আশায় সুপার এইটের জায়গায় সুপার টেন করার কথা ভাবছে আইসিসি। অর্থাৎ এখন থেকে ১০টি করে দল পরের রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে। যদিও আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে ক্রিকেটেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১৪টি দল নিয়ে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে সেটি ১২ দলের করা হতে পারে। পাশাপাশি একটি সুপার সেভেন পর্ব করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেই বাছাই পর্ব পেরিয়ে সেরা দুইটি দল বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে ২০২৭ সালে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ থেকেই এটা কার্যকর করা হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শচীন টেন্ডুলকার থেকে বিশ্বের সাবেক অনেক ক্রিকেটারই ৪০ ওভারের ওয়ানডে আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় আলোচনা হয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দল সংখ্যা বাড়ানো নিয়েও।

যদিও শেষ পর্যন্ত পুরনো নিয়মেই বহাল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। অর্থাৎ এখনই আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরেই থাকতে হচ্ছে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পয়েন্টের শতাংশের হিসেবে শীর্ষ দুইটি দল ফাইনাল খেলে। ভবিষ্যতে এখানে সেমিফাইনাল যুক্ত করার কথা ভাবছে আইসিসি। এমনটা হলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করেন অনেকে।

গত এক দশকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা রীতিমতো তুঙ্গে। সেটাকে কাজে লাগাতে চায় আইসিসি। একটা সময় বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত হতো ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তবে একটা সময় পর সেটা বন্ধ হয়ে যায়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ায় সেটাকে আবারও ফেরানোর কথা ভাবছে অনেকে।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে ওয়ার্ল্ড ক্লাব টি-টোয়েন্টি আয়োজনের দিকে হাঁটছে আইসিসি। সুযোগ পেতে পারেন আইপিএল, বিগ ব্যাশ, পিএসএল, বিপিএলসহ অন্যান্য দেশের লিগের চ্যাম্পিয়নরা। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যেই টুর্নামেন্টটি চালু করা হতে পারে। চলতি বছরের শেষের দিকে ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তাদের একটি সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আরো পড়ুন: