আইপিএলের দরজা খোলা রেখেই টেস্ট কোচ খুঁজছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ড ক্রিকেট
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের যুগে জাতীয় দলের কোচ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর জন্য। বাস্তবতা বুঝে তাই নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিয়েই নতুন কোচ খুঁজছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উত্তরসূরিকে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইপিএলেও কোচিং করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা। এমন সিদ্ধান্ত হলে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ হিসেবে ফেরার পথ খুলে যেতে পারে। কারণ বর্তমানে তিনি আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্বে থেকে দারুণ সাফল্য এনে দিয়েছিলেন ফ্লাওয়ার। তার অধীনেই আইসিসির টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল ইংল্যান্ড। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মাটিতে সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়েছিল দলটি। জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও নিজেকে সফল কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে টানা দুটি আইপিএল শিরোপা জিতিয়েছেন অ্যান্ডি। সেই সাথে চলতি মাসে দ্য হান্ড্রেডে লন্ডন স্পিরিটের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচের পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যাককালাম। তবে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন কোচিং স্টাফ অতীতে জাতীয় দলের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও কাজ করেছেন। টিম সাউদি অ্যাশেজ সফরের মাঝপথে আইএলটি-টোয়েন্টিতে খেলতে চলে গিয়েছিলেন। এছাড়া বিশ্লেষক, ফিজিও এবং দলীয় ম্যানেজার ওয়েন বেন্টলিও আইপিএলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এই সপ্তাহেই ম্যাককালামকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসিবি। ভারতের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টির আগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড জানান, নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

গুল্ড বলেন, ‘প্রধান সব পদের জন্যই আমাদের কাছে আগাম সংক্ষিপ্ত তালিকা থাকে, এমনকি আমার নিজের পদটির ক্ষেত্রেও। নতুন কোচের জন্যও ছয় থেকে দশজনের একটি তালিকা রয়েছে।’ যদিও তিনি কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেননি।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আইপিএলে কাজ চালিয়ে যেতে চাওয়াকে নতুন কোচ নিয়োগের পথে বাধা হিসেবে দেখা হবে না।

গুল্ড বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের আরও আধুনিকভাবে ভাবতে হবে। খেলোয়াড়দের যেমন কাউন্টি ক্রিকেট, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়, তেমনি কোচিং স্টাফদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আংশিকভাবে আমরা ইতোমধ্যেই তা করছি। ভবিষ্যতে এটি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা হলো আইপিএলের সূচি নির্দিষ্ট নয়। ফলে কিছু সমঝোতা করতেই হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে ব্যক্তি এই দায়িত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তাকে নিয়োগ দেওয়া। বিষয়টি আমরা অবশ্যই বিবেচনায় রাখব।’

আইপিএলের সূচি অনেক সময় ইংল্যান্ডের টেস্ট সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। চলতি বছর জ্যাকব বেথেল ও জোফ্রা আর্চার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি, কারণ তারা তখন আইপিএলে ব্যস্ত ছিলেন। আগামী বছরও মে মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সম্ভাব্য একমাত্র টেস্ট ম্যাচ আইপিএলের প্লে-অফের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।

ম্যাককালামের উত্তরসূরি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন ইংল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি। তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি আস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন গুল্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামী ১৯ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দিতে চায় ইসিবি। তবে প্রয়োজন হলে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ নিয়োগও দেওয়া হতে পারে।

এদিকে নতুন টেস্ট কোচ নিয়োগের আগে বেন স্টোকসের উত্তরসূরি হিসেবে টেস্ট অধিনায়ক ঘোষণা করার সম্ভাবনা কম। গুল্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিন সংস্করণেই একজনের অধিনায়কত্ব করা ‘একজনের জন্য অতিরিক্ত চাপ’ হবে। ফলে সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের তিন সংস্করণের নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদে জো রুটের আবারও টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।

গুল্ড বলেন, ‘প্রথমে টেস্ট কোচের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এরপরই অধিনায়ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নতুন কোচের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা থেকে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকেও বাদ দেননি গুল্ড। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের প্রধান কোচ। যদিও ইসিবির চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় তাকে নিয়োগ দিলে আলোচনা তৈরি হতে পারে। গুল্ড বলেন, ‘আমরা কোনো বিকল্পই বাদ দিচ্ছি না।’

ফ্লিনটফ ছাড়াও ইংল্যান্ডের রিচার্ড ডসন, জোনাথন ট্রট ও জেমস ফস্টারের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো অগ্রাধিকার দিচ্ছে না ইসিবি। বিশ্বের সেরা কোচদের মধ্য থেকেই নতুন প্রধান কোচ বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের। সম্ভাব্য বিদেশি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার, মাইক হেসন, রাহুল দ্রাবিড় ও স্টিফেন ফ্লেমিং।

মাত্র তিনটি টেস্টের মধ্যেই ম্যাককালামকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত ইসিবির অবস্থানের বড় পরিবর্তন। অ্যাশেজ-পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন গুল্ড। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গুল্ড বলেন, ‘ফলাফল আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি। ক্রিকেট সবসময়ই ফলাফলের খেলা। তাই পরিবর্তন আনতেই হয়েছে। ২০২৭ সালের অ্যাশেজ শুরু হওয়ার আগে আমাদের হাতে এখনও ১০টি টেস্ট রয়েছে। নতুন কোচকে নিয়ে প্রস্তুতির জন্য যতটা সম্ভব সময় কাজে লাগাতে চাই।’


আরো পড়ুন: