মাসুদের অধীনে পাকিস্তানের টেস্ট যাত্রা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ১৬টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়েছেন মাত্র চারটিতে, হেরেছেন ১২টিতে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ১৬ ম্যাচে আর কোনো অধিনায়কের ১২টি হার নেই। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান টানা সাতটি টেস্টও হেরেছে, যা দেশটির টেস্ট ইতিহাসের যৌথভাবে সবচেয়ে দীর্ঘ একটানা হার।
মাসুদের নেতৃত্বের শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হার দিয়ে। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ হারতে হয় পাকিস্তানকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একবার ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতলেও সেটিই ছিল তার নেতৃত্বের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য। মোট সাতটি সিরিজের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে মাত্র একটি, চারটিতে হেরেছে এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অবস্থান তালিকার তলানিতে শেষ করেছে তারা।
তবে ব্যক্তিগতভাবে ব্যাট হাতে মাসুদের সময়টা তুলনামূলক ভালো ছিল। অধিনায়ক হওয়ার পর তার গড় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪-এর বেশি, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় রান বেশি। এই সময়ে দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেন সাতটি হাফ সেঞ্চুরি। সাউথ আফ্রিকায় একটি সেঞ্চুরিও রয়েছে তার।
মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আবার দায়িত্ব পেয়েছেন বাবর আজম। তবে আগেরবার নেতৃত্ব ছাড়ার পর থেকে ব্যাট হাতে খুব একটা ধারাবাহিক ছিলেন না তিনি। বিশেষ করে মাসুদের নেতৃত্বে টেস্টে তার গড় ছিল ২৭-এর সামান্য বেশি। তবু অভিজ্ঞতা ও বিকল্পের সীমাবদ্ধতার কারণেই আবারও তার ওপর আস্থা রেখেছে পিসিবি।
প্রথম দফায় বাবরের নেতৃত্বে পাকিস্তান ২০টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছিল। তার নেতৃত্বে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাটিতেও পূর্ণাঙ্গ সিরিজ জিতেছিল দল। একই সময়ে ব্যাট হাতেও ছিলেন দারুণ ধারাবাহিক, টেস্টে তার গড় ছিল ৫০-এর বেশি।
নতুন দায়িত্ব নিয়েই ব্যস্ত সূচির মুখোমুখি হচ্ছেন বাবর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে পাকিস্তান যাবে ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে শেষ হবে তাদের ব্যস্ত মৌসুম।