দিনুশা শতক না পেলেও শ্রীলঙ্কা গড়েছে নতুন এক মাইলফলক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এই প্রথমবারের মতো পাঁচশ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে তারা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সফরকারীরা ৯ উইকেটে ৫৪৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে দিনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ এক উইকেটে ৫৮ রান। এখনও ৪৯১ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় পরীক্ষায় সাত নম্বরে নেমে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন দিনুশা। ১৬৬ বলে ১২টি চার মেরে করেন ৯২ রান। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন কুশল মেন্ডিস। আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় ১১৫ বলে ৬৯ রান করেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ১৪৩ রানের জুটি শ্রীলঙ্কার বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
প্রথম দিন লাহিরু উদারার ১৮৮ ও কামিন্দু মেন্ডিসের ৮৪ রানে পাঁচ উইকেটে ৩৩৮ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দিনুশা ছিলেন পাঁচ রানে, আর মেন্ডিস ছিলেন শূন্য রানে। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দুজনই ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং দলের রান চারশ ছাড়িয়ে দেন।
প্রথম ঘণ্টার শেষ দিকে মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শামার জোসেফের বলে স্লিপে তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন জন ক্যাম্পবেল। তখন মেন্ডিসের রান ছিল ২৩। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও মূল্যবান রান যোগ করেন তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর স্বাগতিক বোলারদের ধারাবাহিকতার অভাবের সুযোগ নেয় শ্রীলঙ্কা। শামার জোসেফকে চার মেরে ১১২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন দিনুশা। অন্যদিকে আলজারি জোসেফকে ছক্কা মেরে ৯৮ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান মেন্ডিস। পরে অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে ভিন্নধর্মী শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর মিলান রত্নায়েকের সঙ্গে জুটি গড়ে শতকের পথে এগোচ্ছিলেন দিনুশা। কাভেম হজকে পরপর দুটি চার মেরে পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে। তবে পরের বলেই লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বল ধরা পড়ে মাঠরক্ষকের হাতে। ফলে মাত্র ৮ রান দূরে থেকে শেষ হয় তার দারুণ ইনিংস। পরে নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের অবদানে ৫৪৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক ধনঞ্জায়া ডি সিলভা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সাতজন বোলার উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফ সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। জবাবে উদ্বোধনী জুটিতে সতর্ক সূচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে আসিথা ফার্নান্দোর বলে ব্র্যান্ডন কিং ১৭ রানে আউট হন। দিন শেষে জন ক্যাম্পবেল ৩১ ও কাভেম হজ ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।