উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নেয়ার পর দলগুলোকে দেশে ফেরাতে বিকল্প পথ খুঁজছেন আয়োজকেরা।
সিডব্লিউআই তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, 'দল ও সহায়ক স্টাফদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে আমরা আইসিসি, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইনস অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আমাদের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'
আরও বলা হয়েছে, 'দল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে এবং সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। পরিস্থিতির ওপর আমরা নিবিড় নজর রাখছি। ভ্রমণসংক্রান্ত চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।'
ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যদের ধাপে ধাপে দেশে ফেরার কথা ছিল। দলের একটি অংশের সোমবার ভোরে রওনা দেয়ার সূচি ছিল, বাকিরা পরে রওনা দিতেন। দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারেতে ফেরার জন্য তাদের এমিরেটসের ফ্লাইটের টিকিট কাটা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প এয়ারলাইনস ও রুট বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের জন্য ৪ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির হোটেল বুকিংও বাড়ানো হয়েছে।
ভ্রমণ-পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্টতা এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে জিম্বাবুয়ের কোচ জাস্টিন স্যামন্স বলেন, 'না, আমি এমন কিছু শুনিনি। যখন খেলা শুরু করি, তখন কিছু জানা ছিল না। এখনো পুরো মনোযোগ ম্যাচেই, এর পর থেকে নতুন কিছু শুনিনি।'
এদিকে শনিবার সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলে বিদায় নেয়া পাকিস্তান দল শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে কলম্বো থেকে লাহোরে ফিরেছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই অঞ্চলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল জানিয়েছে, 'মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট টুর্নামেন্ট আয়োজনের ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে খেলোয়াড়, দল–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও সম্প্রচারকর্মীদের বড় অংশ নিজ নিজ দেশে ফেরার ক্ষেত্রে উপসাগরীয় হাব বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করেন, বিশেষ করে দুবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।'
আইসিসি আরও জানিয়েছে, তাদের ভ্রমণ ও লজিস্টিকস দল আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিকল্প হাব ব্যবহারসহ অন্যান্য সংযোগ–রুট সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছে।