চেন্নাই, কলকাতা, রাজস্থান নাকি দিল্লি—কোথায় যাবেন হার্দিক?

আইপিএল
বিসিসিআই
বিসিসিআই
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আইপিএলের গত মৌসুম শেষের পর থেকেই সবচেয়ে বড় খবর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়তে যাচ্ছেন হার্দিক পান্ডিয়া! গত কয়েক মাস ধরেই এমন গুঞ্জন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ঘুরপাক খাচ্ছে। ট্রেডে হার্দিককে নিতে চায়, এমন কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির নামও শোনা গেছে। যদিও ভারতের তারকা অলরাউন্ডার ও মুম্বাইয়ের অধিনায়কের দলবদলের আলোচনা খুব একটা এগোয়নি। এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকবাজ।

২০২৪ আইপিএলের আগে ১৫ কোটি রুপিতে গুজরাট টাইটান্স ছেড়ে মুম্বাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন হার্দিক। পুরনো দলে ফিরে নেতৃত্বও পেয়েছিলেন তিনি। রোহিত শর্মার জায়গায় অধিনায়ক হলেও মুম্বাইকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। বরং ব্যক্তিগত ও দলগত পারফরম্যান্সে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ে ফেরার পর থেকে ২৫ এর কম গড়ে দুইশর বেশি করে রান তুলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। স্ট্রাইক রেটটা অবশ্য দেড়শ। উইকেট নিয়েছেন ২৯টি।

টানা কয়েক মৌসুমে মুম্বাই ভালো না পারার সঙ্গে ড্রেসিং রুমের সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এত কিছুর পরও হার্দিককে মুম্বাই ছেড়ে দেবে কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভেতরের সূত্র অনুযায়ী তারকা অলরাউন্ডারকে নাও ছাড়া হতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত এটাই হবে সেটারও নিশ্চয়তা নেই। হার্দিককে পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাইকে ফোন করেছে।

পাশাপাশি মুম্বাইয়ের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। যদিও আলোচনাগুলো একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হার্দিকের চাহিদা এখনো যে আকাশচুম্বী সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাকে পেতে আগ্রহ রয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের। তাদের সঙ্গে ট্রেড করলে অক্ষর প্যাটেলকে চাইতে পারে মুম্বাই। গত কয়েক বছর ধরে স্পিনে ভুগতে হয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। একপ্রকার বাধ্য হয়ে স্পিনার হিসেবে খেলা হয়েছে উইল জ্যাকস, মিচেল স্যান্টনারদের।

অক্ষরকে দলে নিতে পারলে জ্যাকস, স্যান্টনারদের অনায়াসে একাদশের বাইরে রাখতে পারবে মুম্বাই। তখন একজন বাড়তি বিদেশি পেসারও খেলানোর সুযোগ থাকবে তাদের। তবে দিল্লির সঙ্গে এমন ট্রেড হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। গত আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অক্ষর। পারফর্মারের পাশাপাশি নেতৃত্বগুণও দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্থান রয়্যালসও আলোচনায় রয়েছে। গুঞ্জন আছে, হার্দিকের জন্য ইয়াশভি জয়সাওয়ালকে বিসর্জন দিতে পারে তারা।

নিকোলাস পুরানকে দিয়ে হার্দিককে পেতে চাইবে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। এগুলো গুঞ্জন হলেও সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংসকে নিয়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হার্দিককে দিতে রাজি থাকলেও চেন্নাই থেকে আয়ুশ মাত্রে ও শিভাম দুবেকে চেয়েছে মুম্বাই। তবে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি চেন্নাই। ক্রিকবাজ জানিয়েছে, আপাতত কোচ নিয়োগ করা নিয়ে ব্যস্ত চেন্নাই।

স্টিফেন ফ্লেমিং চলে যাওয়ায় নতুন কোচ খুঁজছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। কদিন আগে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, আইপিএলের সময় চাইলে কোচরা কাজ করতে পারবে। সেটার জন্য তারা ছুটিও দেবে। এমনটা হলে চেন্নাইয়ের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিতে পারেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। গুঞ্জন আছে, ইংল্যান্ড টেস্ট দলের প্রধান কোচের চাকরি পেতে ফ্লেমিংকে সহযোগিতা করেছিলেন ম্যাককালাম।

আবার এমনও গুঞ্জন আছে, ম্যাককালামকে চেন্নাইয়ের চাকরি পেতে সহায়তা করবেন ফ্লেমিং। যদিও এমন খবরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়ার পরই হার্দিকের দলবদল নিয়ে আলোচনা করতে পারে চেন্নাই। তাদের পাশাপাশি আলোচনায় আছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নামও।

ভারতীয় অলরাউন্ডারকে পেতে ক্যামেরন গ্রিনকে দিতে রাজি তারা। তবে কলকাতার এমন প্রস্তাবে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা নেই মুম্বাইয়ের। কারণ অ্যাশেজের জন্য গ্রিন ২০২৭ আইপিএল খেলবেন কিনা সেটাই এখনো নিশ্চিত নয়। গ্রিনের পাশাপাশি প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেডদের আইপিএল খেলাও নিশ্চিত। কারণ আইপিএলের পরই ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলবে তারা। সেই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে আইপিএল ছাড়তে পারেন অস্ট্রেলিয়ান তারকারা।

আরো পড়ুন: