মৌসুমের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে থাকলেও নিউইয়র্কের হয়ে এটি ছিল সাকিবের দ্বিতীয় ম্যাচ। আগের ম্যাচে এক রান করার পাশাপাশি চার ওভারে ২৫ রান দিলেও উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। এরপর এক ম্যাচ বাইরে থাকার পর আবার সুযোগ পেয়ে ব্যাট ও বল- কোনো বিভাগেই ছন্দ খুঁজে পাননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিল সাকিবের। রায়ান রিকেলটন ও নিকোলাস পুরান দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে এসে পরপর দুই বলে দুটি চার হাঁকান তিনি। তবে এরপর সিয়াটলের বোলাররা চাপে ফেলে দিলে বড় শট খেলতে গিয়ে আলী শেখের বলে মার্কাস স্টইনিসের হাতে ধরা পড়েন।
সাকিব, মোনাঙ্ক প্যাটেল ও কোরি অ্যান্ডারসনের দ্রুত বিদায়ে নিউইয়র্ক একসময় ৭৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। সেখান থেকে কাইরন পোলার্ড ও তাজিন্দার সিং দারুণ জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। পোলার্ড ৩৩ বলে ৫৪ রান করেন, আর তাজিন্দার ২৭ বলে অপরাজিত ৬৬ রান করে দলের সংগ্রহ ১৭৯ রানে পৌঁছে দেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণের মুখে পড়েন সাকিব। নিজের প্রথম ওভারেই একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করেন তিনি। পরের ওভারগুলোতেও রান আটকাতে পারেননি। চার ওভারে ৪৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পাওয়ায় তার বোলিং ছিল নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
তবে সিয়াটলের ব্যাটাররা শুরুতে দারুণ অবস্থানে ছিল। দ্বিতীয় উইকেটে টিম সেইফার্ট ও ম্যাথু ব্রিটস্কি ১১৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান। একসময় তাদের প্রয়োজন ছিল ৩৬ বলে মাত্র ৪৯ রান, হাতে ছিল নয়টি উইকেট।
সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নিউইয়র্ক। ব্রিটস্কিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন পোলার্ড। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিয়াটল। শিমরন হেটমায়ার, মার্কাস স্টয়নিসসহ পরের ব্যাটাররা কেউই দলের জয়ের পথ সহজ করতে পারেননি।
৬১ বলে ৮৮ রান করা সেইফার্টও শেষের আগের ওভারে ফিরে গেলে সিয়াটলের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৭ রানের জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এমআই নিউইয়র্ক।