স্টোকসের নাইটক্লাব বিতর্কের পর কঠোর নীতিমালা ইংল্যান্ডের

ইংল্যান্ড ক্রিকেট
বেন স্টোকস, ফাইল ফটো
বেন স্টোকস, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনের নাইটক্লাব-সংক্রান্ত বিতর্কের পর ক্রিকেটারদের জন্য আরও কঠোর আচরণবিধি চালু করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। নতুন নীতিমালায় প্রকাশ্যে মদ্যপান, এমনকি দলের হোটেলের উন্মুক্ত এলাকাতেও মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পর স্টোকস ও অ্যাটকিনসন একটি নাইটক্লাবে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। এরপরই ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি'র অনুমোদনে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইসিবি ও ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং মাঠের পারফরম্যান্স উন্নত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রব কি বা প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বিশেষ অনুমতি ছাড়া খেলোয়াড়রা কোনো প্রকাশ্য স্থানে, এমনকি দলের হোটেলের পাবলিক এরিয়াতেও মদ্যপান করতে পারবেন না।

এছাড়া আগে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সতীর্থদের সঙ্গে পানীয় উপভোগ করার যে প্রচলন ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এখন পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ শেষ হলেও পরদিনের আগে মদ্যপানের অনুমতি মিলবে না।

নতুন নীতিমালার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো-

* রাত ১২টার কারফিউ বহাল থাকবে।

* প্রকাশ্যে মদ্যপ অবস্থায় দেখা যাওয়া যাবে না এবং মদ্যপান-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া যাবে না।

* রাত ১০টার পর হোটেলের বাইরে থাকলে বা পরিকল্পনা পরিবর্তন হলে দলীয় ব্যবস্থাপনা বা নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

* খেলোয়াড়দের মদ্যপান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

* রব কি বা ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকাশ্য স্থানে মদ্যপান করা যাবে না।

* ব্যক্তিগত পরিসরেও মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে জোরালোভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারের পরও ইসিবি রাত ১২টার কারফিউ চালু করেছিল। কুইন্সল্যান্ডের নুসায় সিরিজ চলাকালে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মদ্যপানের ছবি প্রকাশ এবং নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে হ্যারি ব্রুকের একটি নাইটক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনার পর সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

দ্য টেলিগ্রাফের দাবি, স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের সাম্প্রতিক আচরণে ইসিবি বেশ অসন্তুষ্ট ছিল। এমনকি অ্যাটকিনসন জানতেনই না যে দলের জন্য কারফিউ কার্যকর ছিল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক হোম সিরিজে মাঠের বাইরের নানা বিতর্কের মধ্যেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে ইংল্যান্ড। সেই সিরিজের তৃতীয় টেস্ট চলাকালেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন অধিনায়ক বেন স্টোকস।

আরো পড়ুন: