এই আসরের শুরু থেকেই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে আসছেন সূর্যবংশী। প্রথম ম্যাচেই ১৭ বলে ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে জানান দেন নিজের আগমনী বার্তা। এরপর ১৮ বলে ৩১ ও ১৪ বলে ৩৯ রানের দুটি কার্যকর ইনিংস খেলেন। আরেক ম্যাচে সাতটি ছক্কায় ২৬ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত প্রদর্শনও ছিল তার ব্যাট থেকে। তবে সর্বশেষ ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন তিনি।
সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে তার সংগ্রহ ২০০ রান, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইক রেটও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এমন সাফল্যের মাঝেও ব্যর্থতা যে আসবে, সেটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন সাঙ্গাকারা। তিনি বলেন, 'প্রথম বলেই আউট হওয়া মানেই ব্যর্থতা, এভাবে ভাবাটা খুব কঠিন করে ফেলে। বৈভবের জন্য আমার বার্তা খুব সহজ, সবকিছু উপভোগ করে যেতে হবে।'
সাঙ্গাকারা আরও যোগ করেন, '৩৫ বলে ১০০ হোক, ১৫ বলে ৫০ হোক কিংবা প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট, সবই খেলার অংশ। তুমি যেমন রান করবে, তেমনি ব্যর্থতাও আসবে। এটাকে মেনে নিয়েই এগোতে হবে।'
এই কিশোর ক্রিকেটারের প্রতি নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে সাঙ্গাকারা বলেন, 'আমি চাই সে যেন সেই ১৫ বছরের কিশোরই থাকে, যে শিশুসুলভ আনন্দ নিয়ে মাঠে নামে। খেলাটাকে ভালোবেসে, সহজভাবে উপভোগ করেই সে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।'
দুই মৌসুম ধরে কাছ থেকে সূর্যবংশীকে দেখে সাঙ্গাকারা বুঝেছেন, শুধু প্রতিভাই নয়, কঠোর পরিশ্রমও তার বড় শক্তি। তিনি বলেন, 'অনেকে তার প্রতিভা নিয়ে কথা বলে, কিন্তু নেটে তার পরিশ্রমটা সবাই দেখে না। সে খেলাটা খুব ভালো বোঝে, পরিস্থিতি বুঝতে পারে এবং বোলারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করে এগোয়।'
ভয়ডরহীন ব্যাটিংই সূর্যবংশীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে। প্রথম বল থেকেই আক্রমণে যাওয়ার প্রবণতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। তবে এই ধরনের খেলায় ঝুঁকিও বেশি থাকে। তাই সাঙ্গাকারার পরামর্শ, 'এই বয়সে তাকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না করাই ভালো। অনেক সময় কম কথা বলাই একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য সবচেয়ে উপকারী হয়।'